রবিবার, ২২ মে ২০২২, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

২৬ ফেব্রুয়ারি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচন, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ

  • স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • ২০২২-০১-২৫ ২৩:২৬:০৩
image

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচনী পালে হাওয়া লেগেছে। ২৪ জানুয়ারি খসড়া তালিকা প্রণয়ন এবং সমিতির ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে  এ হাওয়া আরও বেগবান হয়েছে।  নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচনের দিকে হাঁটছে সমিতি। ২০১৬ সালের ১ জুন সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সমিতির নির্বাচনের এ তারিখ নিয়ে সকলেই আশান্বিত। শিক্ষা ক্যাডারের উন্নয়নে কাজ করার মতো যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার এ সুযোগকে কাজে লাগাতে চায় তরুণ ক্যাডার কর্মকর্তারা । এ বিষয়ে সমিতির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন,  “মাঠ পর্যায়ে ক্যাডার কর্মকর্তাদের দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে নির্বাচনী জট খুলছে। তাই এখন সবার দৃষ্টি আসন্ন নির্বাচনের দিকেই। গতকাল ‘খসড়া ভোটার তালিকা’ প্রকাশ করার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করে দিয়েছে।  আজ ২৫ জানুয়ারি তালিকা সংশোধনের দিন ধার্য্য করা আছে। চুড়ান্ত ভোটার তালিকা হয়ে যাবে শীঘ্রই। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রি. শনিবার নির্বাচনের দিন ঠিক আছে। সবাই নির্বাচনকে ঘিরে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গত ১২ জানুয়ারি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই তফসিল অনুযায়ী ২৪ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে সমিতির ওয়েবসাইটে। আজ ২৫ জানুয়ারি চুড়ান্ত ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের জন্য ২৭ জানুয়ারি ২০২২, বৃহষ্পতিবার তারিখ ধার্য্য করা আছে। ২৮-২৯ জানুয়ারি মনোনয়ন সংগ্রহ ও দাখিলের নির্ধারিত তারিখ। সুতরাং সামনের কয়েকটি দিন সমিতির আসন্ন নির্বাচনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবার কি অন্যান্য বছরের মতো প্যানেলভিত্তিক নির্বাচন হবে নাকি স্বতন্ত্র নির্বাচন হবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে। প্রায় তিনবছর পর শিক্ষা ক্যাডারের একমাত্র সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ২০১৬ সালে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৮ সালে সমিতির নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর একটি আহ্বায়ক কমিটি সমিতির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। ২০ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটির আন্তরিক প্রচেষ্টাতেই দীর্ঘদিনের জট খুলে নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হতে থাকে। গত ২২ ডিসেম্বর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির আহ্বায়ক কমিটি ২০ জানুয়ারি ভোটার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরই মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী জোর হাওয়া বইতে শুরু করে। ১৬ হাজার শিক্ষা ক্যাডার সদস্য এবারের নির্বাচনটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন।

শিক্ষাপত্রিকার পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের কাছে আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে সবাই খুব উৎসাহভরে নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তার সাথে অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে নবীন সদস্যদের জন্য এই নির্বাচনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে সবাই মনে করেন। এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য চাঁদা প্রদানের বিষয়টি রহিত করা হয়েছে যা ১৩ জানুয়ারি সমিতির ওয়েবসাইটে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ সমিতির এই সিদ্ধান্তে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।  এবারের নির্বাচনে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ব্যাপারে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ১৬ হাজার ক্যাডার সদস্যের সবাই ভোটার হয়ে এবারের নির্বাচনে যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেবেন বলে অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সমিতির নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হওয়ার পর থেকে অনেকেই নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করে নিচ্ছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা কয়েকটি প্যানেলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। আগামী ২৭ এবং ২৮ জানুয়ারি মনোনয়ন পত্র  ক্রয়ের পরপরই এ বিষয়ে সবকিছু পরিষ্কার হবে বলে ক্যাডার কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে একজন সিনিয়র ক্যাডার কর্মকর্তা বলেন, “একসময় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচন ছিল নামকাওয়াস্তে। নির্বাচনের নামে প্রহসন চলতো বছরের পর বছর। একই মুখ ঘুরে ফিরে একবার সভাপতি তো আরেকবার মহাসচিব। এভাবেই চলছিল যুগ যুগ ধরে। সমিতির ইতিহাস ঘাটলে তা-ই দেখতে পাওয়া যাবে। ২০১৩ সালে এই প্রথার বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম আঘাত হানা হয়। এই আঘাতটি হেনেছিলেন শফিক-শাহেদ প্যানেল। এই প্রথার বিরুদ্ধে যেতে গিয়ে শফিক-শাহেদ প্যানেলের ১২৩ জন সদস্যকে নানান হুমকি এবং ভীতির মুখে পড়তে হয়। সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো হচ্ছে বলেও অপবাদ দেওয়া হয়। অনেককে বদলি হয়রানির মুখে পড়তে হয়। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন করেও আন্ত:প্যানেল মাত্র কয়েকটি সদস্য পদ পেয়ে সমিতির সেই সিন্ডিকেটের মূলে কুঠারাঘাত করে। সেই নির্বাচনে নাসরিন-রাব্বি প্যানেল জয়ী হয়। বিএনপি ঘরানার সেই প্যানেল শিক্ষা ক্যাডারের উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তা বর্তমান তরুণ ক্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ অবশ্যই জানতে চাইতে পারেন। নির্বাচিত সেই প্যানেল আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিএনপি নেত্রীর দ্বারস্থ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারকে সরকারের কাছে বৈরি করে তুলেছে। আমরা আশা করছি এই নির্বাচনে বর্তমান সরকারের শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে কাজ করবে এমন প্রার্থীরাই নির্বাচিত হবেন। ”  

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির পরবর্তী এবং সর্বশেষ নির্বাচন ছিল ২০১৬ সালের ১ জুন। এ নির্বাচনে ‘ক’ প্যানেল থেকে মাসুম-শাহেদ পরিষদ, ‘খ’ প্যানেল থেকে নেছাওর-রাব্বী পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী  হিসেবে আইকে সেলিম উল্লাহ খন্দকার সভাপতি পদে প্রার্থী হন। ১২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ‘ক’ প্যানেল থেকে মহাসচিব পদে প্রফেসর শাহেদুল খবির সহ ১২১ জন নির্বাচিত হলেও সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর আই কে সেলিমউল্লাহ খোন্দকারের বিজয় সবাইকে হতবাক করে দেয়। ‘ক’ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী প্রফেসর মাসুমে রাব্বানীকে ঠেকানোর জন্য সিন্ডিকেট করে অন্য ঘরানার একজনকে সভাপতি পদে জয়ী করা হয়। ফলে ১২৩ সদস্যের মধ্যে মহাসচিবসহ ১২১ জন একদিকে আর সভাপতিসহ ২ জন আরেকদিকে। এভাবেই সমিতি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকে। তবে সমিতির মহাসচিবের দৃঢ়তায় সমিতির বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্যও আসে এ মেয়াদকালে। ২০১৮ সালে নিয়মিত কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় চারমাস করে দুই কিস্তি মেয়াদ বর্ধিত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গঠনতন্ত্রের বিধান মোতাবেক ২০১৯ সালে ২০ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়কের অনীহা, করোনা পরিস্থিতির কারণে দুইবার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০২২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনটি শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের কাছে তাই খুবই আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এবারই প্রথম অনেক নবীন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। 

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির খসড়া তালিকা দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন:  www.bcsgea.org.bd


এ জাতীয় আরো খবর