রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯

মাউশির নতুন মহাপরিচালক কে হচ্ছেন: যা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা

  • স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • ২০২২-০১-১২ ০১:২৪:১৬
image
ছবি: বাঁ থেকে (বিদায়ী মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক এবং ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক প্রফেসর মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী)

শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ হচ্ছে মহাপরিচালক পদ। গ্রেড ওয়ানের এই পদটি  মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর নিকট  ডাইরেক্টর জেনারেল বা ডিজি হিসেবে পরিচিত।  গতকাল ১০ জানুয়ারি মহাপরিচালক বা ডিজি প্রফেসর ড. সৈয়দ মোঃ গোলাম ফারুক এর শেষ কর্মদিবস ছিল। সে হিসেবে আজ ১১ জানুয়ারি ২০২২ থেকে মহাপরিচালক পদটি শূন্য। মহাপরিচালক শেষ কর্মদিবসে পরিচালক কলেজ ও প্রশাসনের হাতে দায়িত্বভার অর্পণ করে গেছেন। তাই বর্তমানে পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরবর্তী ডিজি না আসা পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

মহাপরিচালক পদে কাকে বসানো হবে সে নিয়ে ক্যাডার সদস্যরা একটি ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই মাউশির ডিজি পদে শিক্ষা ক্যাডারের একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সরকার ইচ্ছে করলে সদ্য বিদায়ী মহাপরিচালকের অবসরোত্তর ছুটি বাতিল করে একবছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারেন। অথবা বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন)কে চলতি দায়িত্ব হিসেবে মহাপরিচালকের দায়িত্ব প্রদান করতে পারেন। মহাপরিচালকের এ পদ প্রাপ্তির জন্য আরও কয়েকজনের নাম আলোচিত হচ্ছে। এর মধ্যে কার ভাগ্যে এ পদ প্রাপ্তি ঘটবে তা জানতে আরও দু'একদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। কোনো সূত্র থেকেই এখনি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না কে হচ্ছেন মাউশির পরবর্তী ডিজি। তবে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা আশা করছেন এই পদে একজন যোগ্য কর্মকর্তাই বসবেন। শিক্ষা পরিবারেরও সবাই এরকমটাই আশা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত একজন কর্মকর্তা বলেন, “শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ চতুর্থ গ্রেডে আটকে থাকায় প্রথম গ্রেডের এই পদ প্রাপ্তিতে নানান জটিলতার সৃষ্টি হয়। তৃতীয় গ্রেড, দ্বিতীয় গ্রেডের স্থায়ী পদসোপান সৃষ্টি করে এই জটিলতার অবসান ঘটানো একান্ত জরুরি। নতুবা এই পদে 'ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক' কিংবা 'চলতি দায়িত্বের' মহাপরিচালক দিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হবে। এটি শিক্ষা ক্যাডারের জন্য খুবই অবমাননাকর। বর্তমান চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক শাহেদুল খবির স্যার অবশ্যই এই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন। ”

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সারা বাংলাদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনা অনুসারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সংক্ষেপে মাউশি, বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করে। সারা বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য মাউশির জনবল খুবই অপ্রতুল। একজন মহাপরিচালক, ছয়জন পরিচালক, নয়জন উপপরিচালক আর কিছু সহকারী পরিচালক ও কর্মকর্তা কর্মচারী দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও মাউশির অধীনে নয়টি আঞ্চলিক পরিচালকের অফিস, ৬৪টি জেলা শিক্ষা অফিস, ৫২৪টি উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আছে। বিভিন্ন তথ্যমতে মাউশি প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে যাতে প্রায় সোয়া লক্ষ শিক্ষক কর্মরত। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় ষোলো হাজার কর্মকর্তাও মাউশির অধীনস্থ।

এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানকে যিনি নিয়ন্ত্রণ করবেন তাঁকে অবশ্যই শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সবকিছু খুঁটিনাটি জানতে হবে। শিক্ষা প্রশাসনের বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে। মাঠ প্রশাসনের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখতে হবে। শিক্ষার সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি বুঝতে হবে। সরকারের শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিদায়ী মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক একজন সজ্জন, জ্ঞানী, কর্মনিষ্ঠ, কর্মতৎপর ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে সর্বমহলে সমাদৃত ছিলেন। বর্তমান সরকারের শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে তিনি একধাপ এগিয়ে ছিলেন। বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় শিক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা পরিচালনা করেছিলেন তিনি। প্রাক্তন মহাপরিচালকের উত্তরসূরি হিসেবে যিনি আসবেন তিনি অবশ্যই শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন বলে সংশ্লিষ্ট সকলে আশা করেন। শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, “বর্তমান পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবির স্যার মহাপরিচালক স্যারের সাথে রানিংমেট হিসেবে কাজ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে উভয়ের কর্মপ্রচেষ্টা ছিল লক্ষণীয়। তাই বর্তমান সরকারের শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য শাহেদুল খবির স্যারই এই পদের জন্য উপযুক্ত। শাহেদ স্যার ‘ফুল ফ্লেজেড’ ডিজি হলে শিক্ষার উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। আশা করি সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন।”

২০১৯ সালের শেষের দিকে বিশ্বব্যাপী করোনার মতো ভয়াবহ প্যানডেমিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিশ্বের উন্নত অনেক রাষ্ট্র করোনার ভয়াবহ আঘাতে বিপর্যস্ত হয়। দেশে দেশে সরকার কর্মপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। করোনার এই ঢেউ বাংলাদেশেও আঘাত হানে। ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থার সন্ধান করা হয়। ফলে বাংলাদেশে শিক্ষা পুরোপুরি থেমে থাকেনি। আমাদের দেশের মতো তথ্যপ্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা দেশও টিভিতে, অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সাথে যুক্ত রাখতে পেরেছে। শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের সংযোগ ঘটাতে পেরেছে। অ্যাসাইনমেন্ট, টিউটোরিয়াল ইত্যাদি শব্দগুলোর সাথে শিক্ষার্থীরা পরিচিতি হয়েছে এবং মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলোতে অংশগ্রহণ করেছে। গতবছর করোনার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা না হলেও এবার সীমিত সিলেবাসে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মহাপরিচালক এবং পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) যৌথভাবে কাজ করেছেন, ফলে কাজগুলোর মধ্যে একটি ধারাবাহিকতা এবং সামঞ্জস্য ছিল। শিক্ষা পরিবারের অভিভাবক শিক্ষা মন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে এ দু’জন শীর্ষ কর্মকর্তা খুবই তৎপর ছিলেন। 

২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) মূল্যায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা পুরস্কার অর্জন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। সরকারি কাজে স্বচ্ছতা, দক্ষতা, দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের বিচারে সেরা হয় বিভাগটি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ বিভাগেরই আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এ অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে মহাপরিচালক এবং দ্বিতীয় প্রধান হিসেবে পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) এ কৃতিত্বেরও দাবিদার। ৫১টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন কম কৃতিত্বের কথা নয়। ৫৩টি কর্মসম্পাদন সূচকের মধ্যে ৪৯টিতে শতভাগ অর্জন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই বিভাগ।

এপিএ’র দক্ষ ও কার্যকর বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভাগ, আওতাধীন দপ্তর/সংস্থা এবং মাঠ পর্যায়ের অফিসসমূহের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। তাই পরবর্তী লক্ষ্য আরও প্রত্যাশার সৃষ্টি করেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের লক্ষ্য হবে এপিএতে প্রথম পুরস্কার অর্জন করা। আর এ পুরস্কার অর্জন করতে মাউশির প্রয়োজন দক্ষ নেতৃত্ব। সাবেক মহাপরিচালকের পাশাপাশি পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) ও এপিএ’র লক্ষ্য অর্জনে যৌথভাবে কাজ করেছেন। তাই এই লক্ষ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেও উভয়ের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তাই মহাপরিচালক হিসেবে ড. সৈয়দ গোলাম ফারুকের মেয়াদ বৃদ্ধি করা যায় কিনা সরকার সেটি গুরুত্বের সাথে ভাবছে  অথবা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (পরিচালক কলেজ ও প্রশাসন)কেও এ পদের বিবেচনায় সরকার রাখছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।  

 বর্তমান সরকারের এসডিজি ফোর বাস্তবায়ন, ভিশন ২০৩০, ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে দক্ষ কর্মকর্তাদের অন্যতম হচ্ছেন মাউশির এ দু’ শীর্ষ কর্মকর্তা। তাই সরকারের শিক্ষা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে এ দু’জনের একজনকেই মহাপরিচালক হিসেবে বেছে নিতে হবে বলে অনেকেই মনে করছেন। বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে একটি হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া। এগুলোর মধ্যে এবারে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে কেন্দ্রীয়ভাবে লটারির মাধ্যমে ভর্তি অন্যতম। মেধাবী কম-মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভালো-খারাপ স্কুলে মিশিয়ে দেওয়াও এই পদ্ধতির একটি লক্ষ্য ছিল। এর ফলে তথাকথিত ভালো স্কুল বলে যেগুলো স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ছিল সে স্কুলগুলো কি ফলাফল করে আর খারাপ স্কুল হিসেবে যেগুলো চিহ্নিত ছিল সে স্কুলগুলো প্রচলিত ধারণা পাল্টে দিতে পারে কিনা তা বুঝা যাবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানে জোর মনিটরিং। বর্তমান সময়ের নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রতিদিনই মাউশির অধীনে জবাবদিহিতার আওতায় থাকবে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সক্ষমতা সৃষ্টি করতে হবে। আর এ বিষয়ে পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর শাহেদুল খবির চৌধুরী কর্মপরিকল্পনা সৃষ্টি করে অনেকটা এগিয়ে আছেন। তাই অনেকেই মহাপরিচালক পদে শাহেদুল খবির চৌধুরীকেই পছন্দের শীর্ষে রেখেছেন। 

বর্তমানে প্যানডেমিক পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকা প্রদান কার্যক্রম চলছে। একটি সু-শৃঙ্খল এবং উৎসবমুখর পরিবেশে এ কার্যক্রম চলছে। এ সমন্বিত কাজগুলো সম্পাদনের নেপথ্য কারিগর পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন)। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অমিক্রন শুরু হলেও সরকারের ভাবনা প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এবং সীমিত পরিসরে ক্লাস চালু রাখা। এব্যাপারে মাউশি অধিদপ্তর রোডম্যাপ করে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে মাউশি’র শীর্ষ পর্যায়ের এ কর্মকর্তার কর্মদক্ষতার ফলে। এছাড়াও ২০২৩ সাল থেকে সরকারের নতুন পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এই পাঠ্যক্রম হবে যুগোপযোগী এবং আধুনিক। এই বিষয়ে এনসিটিবি সিলেবাস এবং পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজ অনেকদূর এগিয়ে এনেছে। ২০২৩ সাল থেকে নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে  ‘প্রকল্পভিত্তিক অভিজ্ঞতাপ্রসূত শিখন শেখানো শিক্ষা পদ্ধতি’ চালু হবে। এই বিষয়ে সাবেক মহাপরিচালক এবং পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) যথেষ্ঠ ক্রিয়াশীল ছিলেন। বিভিন্ন সভা সেমিনারে প্রজেক্ট বেজড লার্নিং বা পিবিএল বিষয়ে ওনাদের বক্তব্য, প্রবন্ধ উপস্থাপন সবার কাছে সহজবোধ্য এবং উপভোগ্য ছিল। তাই নতুন এ পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নে এ দু’ শীর্ষ কর্মকর্তার বিকল্প নেই।  

ক্যাডারবান্ধব এবং  দক্ষ একজন মহাপরিচালক আবশ্যক মাউশির জন্য। শিক্ষা ক্যাডারকে চতুর্থ গ্রেডের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মজীবন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে, বর্তমান সরকারের শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন করতে, জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে, সরকারের মিশন ভিশন বাস্তবায়ন করতে একজন কর্মনিষ্ঠ, ত্যাগী, সাহসী, সৃজনশীল কর্মকর্তাকে মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে অধিষ্ঠিত করা এখন সময়ের দাবি। যদি সদ্য বিদায়ী মহাপরিচালককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান সম্ভব না হয় তবে এ পদে পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) এর বিকল্প নেই বলেই শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অনেকের অভিমত। 


এ জাতীয় আরো খবর