রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯

সমিতিকে বিভাজনের প্রচেষ্টা নস্যাৎ, আহ্বায়ককে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি থেকে বহিষ্কার

  • স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • ২০২২-০১-০৮ ০২:২৪:৩৭
image

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি গতকাল একটি বড় ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা পেয়েছে। সমিতির বিভাজনকে উস্কে দেওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা গেছে এবং অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সমিতি সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৪ জানুয়ারি অধ্যাপক আই.কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকারের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। এজন্য তার নেতৃত্বে কিছু দলছুট এবং বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে ৭ জানুয়ারির (শুক্রবার) সভা ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। আর এই বিভাজনের উস্কানির দায়ে আইনগত পদক্ষেপের মুখেও তিনি। 

গতকাল ( ৭ জানুয়ারি) রাতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সদস্যসচিব প্রফেসর মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী স্বাক্ষরিত  প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘১৫ হাজার সদস্যের শিক্ষা ক্যাডার সমিতির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক আই.কে সেলিম খোন্দকার বিতর্কিত ব্যক্তিদের সামনে আনার জন্য শুক্রবার মাত্র ৩০০ সদস্য নিয়ে একটি সভা করেছেন। সে অবৈধ সভা বা সভার সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির কোনো সম্পর্ক নেই।”

এর আগেও তিনি নানান বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে সমিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। তার এই অব্যাহত সমিতি বিরোধী কার্যকলাপের ফলে পুরো শিক্ষা ক্যাডারই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্রমাগত এ অপচেষ্টার ফলে এবং সমিতির গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে সমিতি থেকে বহিষ্কারের কথা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এর ফলে এখন থেকে তিনি আর বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অন্যতম বৃহৎ ক্যাডার সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না। সমিতিও তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায় বহন করবে না। 

সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী নয় সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন এখনো বহাল রয়েছে। এই কমিশনের মাধ্যমে খুব শিগগিরই তফসিল ঘোষণা করে মার্চের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ গত ২২ ডিসেম্বর সমিতির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নির্বাচন সংক্রান্ত এমন বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছে। উল্লেখ্য ২০১৬ সালে সর্বশেষ নির্বাচন হওয়ার পর দীর্ঘদিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।  পরে মাউশি মহাপরিচালকের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় সমঝোতায় ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। এই আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন প্রফেসর আই.কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার। সদস্যসচিব প্রফেসর মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী।  আহ্বায়ক কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে ৯ সদস্য বিশিষ্ট (এর মধ্যে আহ্বায়কের পছন্দসই ৪ জন ছিল) একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। বার দু’বার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও আহ্বায়কের অনীহা এবং প্যানডেমিক ও জরুরি পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। এখন যখন আহ্বায়ক কমিটি নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ঠিক তখনই এ ধরনের সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন সাবেক আহ্বায়ক।

আরও পড়ুন: শিক্ষা ক্যাডারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র: নেপথ্যে কারা কলকাঠি নাড়ছেন

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির একজন সিনিয়র নেতা শিক্ষাপত্রিকাকে বলেন- “সমিতির সর্বশেষ সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষ হচ্ছেন আহ্বায়ক কমিটির ১৫ জন সদস্য এবং ৯ জন নিয়ে গঠিত নির্বাচন কমিশন। এদিকে মাঠ পর্যায়ে সমিতির নির্বাচনের জোরালো দাবি আসতে থাকায় এবং প্যানডেমিক পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় সমিতি কর্তৃপক্ষ  প্রায় ২০ দিন পূর্বে (২২ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রি.) এক নোটিশের মাধ্যমে সমিতির সদস্যপদ নবায়নসহ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভোটার হওয়ার এবং নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেন। ঠিক এর একদিন পর (২৩ ডিসেম্বর) এডহক কমিটির আহ্বায়ক (যিনি সাবেক সভাপতি হিসেবেই নিজেকে উপস্থাপন করেন) প্রফেসর আই.কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকারের স্বাক্ষরে একটি বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায় তিনি ঢাকা কলেজে ৭ জানুয়ারি একটি জরুরি সাধারণ সভার ডাক দিয়েছেন। গঠনতন্ত্রের ধারার অপব্যাখ্যা করে তিনি কতিপয় জুনিয়র কর্মকর্তাকে উস্কিয়ে ক্যাডার চেতনা বিরোধী এ সভা আয়োজনের ঘোষণা দেন। অভিযোগ আছে জুনিয়র কিছু কর্মকর্তাকে এ সভায় আসার জন্য বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখানো হয়। প্রলোভনের কারণেই হোক কিংবা একই আদর্শের কারণেই হোক হাতে গোণা মুখচেনা কতিপয় ক্যাডার কর্মকর্তা এ সভায় যোগ দেন।”

উক্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে যখন নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে, ক্যাডার কর্মকর্তারা গণতান্ত্রিক উপায়ে যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার জন্য যখন আকূল তখনই জরুরি সাধারণ সভার নামে এই হঠকারী সিদ্ধান্তে ১৬ হাজার শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা হতবাক। গুটিকয়েক কর্মকর্তাকে নিয়ে আহুত এ সভাটি সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র বিরোধী। আমরা সাধারণ ক্যাডার সদস্যবৃন্দ এ সভা আয়োজনের নিন্দা জানিয়েছি এবং এ সভা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছি। আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৬ হাজার ক্যাডার সদস্যের মধ্যে মাত্র ৩০/৪০ জন উপস্থিত হয়েছিল এ বিতর্কিত সভায়। আর দু’তিন শ’ সাধারণ সদস্য কৌতুহলবশতঃ দেখতে গিয়েছে। সাধারণ ক্যাডার সদস্যবৃন্দ একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রের এ নীলনকশা বাস্তবায়ন হতে দেয়নি।

আরও পড়ুন: মাদ্রাসা অধিদপ্তরের পদগুলোতে উচ্চ আদালতের 'স্থিতাবস্থা'র আদেশ, প্রাথমিক বিজয় শিক্ষা ক্যাডারের

শিক্ষা ক্যাডারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন কর্মকর্তা বলেন- “গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুকে এ সভা আয়োজনের বিপক্ষে নেটিজেনরা সরব ছিলেন। শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন গ্রুপে আহ্বায়ক এবং অনুসারীদের ‘জরুরি সাধারণ সভা’ সম্পর্কিত নোটিশ শেয়ার করায় অনেকে যৌক্তিক কমেন্ট করেন কেনো এ ‘অবৈধ জরুরি সাধারণ সভা’ স্থগিত করা হবে না। এর বিপরীতে উক্ত সভা আহ্বানকারীদের পক্ষে ৮/১০ জন প্রোপাগান্ডা চালিয়ে গেছেন এবং ফেসবুকে অশ্লীলভাবে আক্রমণ করেছেন। শিক্ষা ক্যাডারের অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী বিনীতভাবে আহ্বায়ককে এ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি এবং তাঁর অনুসারীরা কোনো কথা না শুনে ক্যাডারকে বিপদের মুখে ঠেলে এ সভা স্বল্প সংখ্যক ক্যাডার সদস্যের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করেন। ২৩ /২৪ জন সমমত এবং সম রাজনৈতিক আদর্শধারী সদস্যের উপস্থিতি আর শ’দুয়েক সহজ সরল ক্যাডার কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে এ সভা জোর করে সম্পন্ন করা নিয়ে উপস্থিত অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকে সভা চলাকালীন বক্তব্যের মধ্যে এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে জোর করে কথা সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য করা হয় বলে অনেক বক্তা অভিযোগ করেছেন।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১৬ হাজার সদস্যের প্রাণের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। এই সমিতিকে নিয়ে নানান ষড়যন্ত্র হয়েছে সময়ে সময়ে। এই সমিতিতে একসময় আত্তীকৃতদের দাপট ছিল দেখার মতো। আত্তীকৃতদের সহায়তায় সমিতির তৎকালীন নেতৃবৃন্দ ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। সে সময়ে যারা সমিতির কাণ্ডারি ছিলেন তারা আজও সিন্দাবাদের ভূতের মতো সমিতির ঘাড়ে চেপে শিক্ষা ক্যাডারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে যাচ্ছেন। আত্তীকৃতদের সুবিধা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিধি হয়েছে এবং সমিতির তৎকালীন নেতৃবৃন্দ এ সকল বিধি বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। বিধি প্রণীত হবার পর ঝাঁকে ঝাঁকে আত্তীকৃত শিক্ষা ক্যাডারে ঢুকে পড়েছেন। তৎকালীন সমিতির নেতৃবৃন্দ শিক্ষা ক্যাডারের বারটা বাজিয়ে ছেড়েছেন। শুধু বিধি প্রণয়ন করেই ক্ষান্ত হননি। মানহীন আত্তীকৃত শিক্ষকদের ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষা, সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় প্রমার্জন ঘটিয়ে তাদেরকে সিনিয়রিটি দিয়ে ক্যাডারের মাথায় বসিয়ে দিতেও সহায়তা করেছেন। সে সময়ে সমিতির দুর্বলতার সুযোগে ক্যাডার সমিতির সমান্তরাল হিসেবে আত্তীকৃতদের নিয়ে গাজ্জালী সমিতিও গড়ে  ‍ওঠেছিল।

আরও পড়ুন: টিএমইডি সচিবের বক্তব্য জাতির পিতার উন্নয়ন দর্শনের পরিপন্থী : শাহেদুল খবির চৌধুরী

একজন ক্যাডার কর্মকর্তা ক্ষোভের সাথে বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের সর্বনাশ করা এবং ভাঙ্গার প্রয়াস শুধু ভিতর থেকেই হয়নি। বাইরে থেকেও হয়েছে। সচেতন ক্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ সে ষড়যন্ত্র সম্পর্কও অবগত আছেন। বাইরের শত্রুর চেয়ে ঘরের শত্রু আরও ভয়ঙ্কর। ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ হয়ে যে ষড়যন্ত্র শিক্ষা ক্যাডারে প্রবেশ করেছে এবং সে ষড়যন্ত্র আজও চলছে। এই ষড়যন্ত্রেরই একটি নাটক মঞ্চস্থ হয়ে গেলো গতকাল ঢাকা কলেজে। সাতই জানুয়ারি ২০২২ সালের দিনটি শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য একটি কলঙ্কের দিন হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে আজীবন। শিক্ষা ক্যাডারের সর্বনাশ ডেকে আনা সেই কুশীলবরা মিলে আজ ঢাকা কলেজে যে কলঙ্কের কালিমা লেপন করে দিল শিক্ষা ক্যাডারের মুখে তার দাগ অনেকদিন থেকে যাবে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি থেকে বহিস্কৃত এক নেতার আয়োজনে একটি তথাকথিত জরুরি সাধারণ সভার নামে প্রহসন হয়েছে ঢাকা কলেজে। সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের কারণে উক্ত নেতাকে সাংগঠনিকভাবে বহিস্কার করার পরও তিনি একটি ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি করেছেন এবং ৫ সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন করেছেন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি নির্বাচনের ঘোষণাও দিয়ে ফেলেছেন তথাকথিত উক্ত বিশেষ সাধারণ সভায়। আর দুই মাস পরেই তিনি পিআরএল গমন করবেন। নিজের চাকুরির শেষ সময়ে এসে তিনি ক্যাডারকে একটি বিভাজনের মধ্যে ফেলে গেলেন। সাধারণ ক্যাডার সদস্যবৃন্দ তাঁর এই হঠকারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছে।”

একসময় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি মানেই ছিল মুখচেনা কতিপয় ব্যাক্তির একটি ক্লাব। শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা সেই সময়টিকে ‘বনেদি নেতাদের সুলতানি আমল’ বলে উপহাস করেছেন। শিক্ষাপত্রিকার পাঠকদের জন্য তিনি ফেসবুকে প্রদত্ত এই স্ট্যাটাসটি শেয়ার করেছেন। স্ট্যাটাসটির আংশিক এখানে  তুলে দেওয়া হলো-

“২০১৬ সালে এসে ক্যাডারকে যারা সত্যিকার অর্থে ধারণ করে, শিক্ষা ক্যাডারের জন্য আত্মঘাতী আত্তীকরণ বিধিমালা-২০০০, আত্তীকৃত, ডেমো, ১০% কোটাকে পিছনে ফেলে শিক্ষা ক্যাডারের অবিস্মরণীয় নন ক্যাডার বিধিমালা-২০১৮ অর্জন, ১৮ মহিলা কলেজের মামলায় জয়লাভ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মামলা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মামলাসহ অসংখ্য অর্জনকে আমলে না নিয়ে সুলতানি আমল ফিরে পাওয়ার জন্যই আজ এই অনৈক্যের সভা।”

শিক্ষা ক্যাডারের আরেকজন কর্মকর্তা ঢাকা কলেজে আজকের এই হঠকারি সভার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, ক্যাডারের বাতিল এবং অযোগ্য কিছু লোক একত্রিত হয়ে জুনিয়র কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে ক্যাডারে স্যাবোটাজ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সচেতন তরুণ ক্যাডার কর্মকর্তাদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে সাবেক সভাপতি কর্তৃক আহুত সভাটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

সমিতির একজন সিনিয়র ক্যাডার কর্মকর্তা বলেন, ২০০১ সাল হতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছরে জনাব আইকে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার, জনাব মাসুমে রাব্বানী ও জনাব অলিউল্লাহ মোঃ আজমতগীর স্যার একাধিকবার মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তাঁরা সহসভাপতি এবং কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন পদেও ছিলেন। উক্ত সময়ে সমিতির কোনো অর্জন নেই। আর জনাব মোঃ শাহেদুল খবির চৌধুরী স্যার মহাসচিব বা সদস্যসচিব পদে আছেন ২০১৬ সালের ১৫ জুন থেকে। এই সময় থেকে ক্যাডারের উন্নয়নে, ক্যাডার কর্মকর্তাদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে যতটুকু কাজ হয়েছে তার সিকিভাগও হয়নি বিগত ৩০ বছরে। ১৯৮৭ সালে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি গঠিত হওয়ার পর থেকে সমিতির অর্জনগুলোর দিকে নজর দিলেই তা স্পষ্ট বুঝা যাবে। উক্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, বিসিএস সাধারণ সমিতিকে কার্যকর করতে নির্বাচনের বিকল্প নেই। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের দিকেই এখন সকলের মনোযোগ। তাই গতকালের এই মূল্যহীন এবং অবৈধ সভা সাধারণ সদস্যদের মনে কোনো দাগ কাটতে পারেনি। এই অবৈধ সভার বিষয়ে চিন্তা না করে আসন্ন নির্বাচনে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন এবং ক্যাডার উন্নয়নে আত্মনিবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি।


এ জাতীয় আরো খবর