শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ৯ মাঘ ১৪২৮

শিক্ষা ক্যাডারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র: নেপথ্যে কারা কলকাঠি নাড়ছেন

  • স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • ২০২১-১২-১২ ২৩:১৯:২২
image

গত ০২ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রি. তারিখে শিক্ষা ক্যাডারে একটি ষড়যন্ত্রের ঝড় বয়ে গেছে। একটি বেনামী অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা নিয়ে এই ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উক্ত আদেশে কয়েকজন জুনিয়র কর্মকর্তা কর্তৃক শিক্ষা ক্যাডারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদের বিরুদ্ধে একটি 'তথাকথিত' তদন্ত কার্যক্রম গঠনের কথা বলা হয়। সেই নোটিশ প্রাপ্ত হয়ে ডাইরেক্টরেট অব ইন্সপেকশন অ্যান্ড অডিটিং (ডিআইএ)'র একজন পরিচালক অতি উৎসাহী হয়ে ছয় দিনব্যাপী (৭ ডিসেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত) তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য আরেকটি নোটিশ করেন এবং তা ডিআইএ'র ওয়েবসাইটে ঝুলিয়ে দেন। সেই নোটিশ ঝুলানোর পর থেকেই ক্যাডার কর্মকর্তাদের ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটতে শুরু করে। অনেক ক্যাডার কর্মকর্তা এ ষড়যন্ত্রকারীদের ধিক্কার জানাচ্ছেন। অনেকেই এই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি ধরতে পেরে বলেছেন ডিআইএ'র মত সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত একটি প্রতিষ্ঠানকে এরকম একটি দায়িত্ব প্রদান শিক্ষা ক্যাডারের দৈন্যদশার বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষা পত্রিকার সাথে আলাপকালে মাউশিতে কর্মরত এক কর্মকর্তা বলেন 'পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের নোটিশবোর্ডে গেলেই দেখতে পাবেন, সেই ষড়যন্ত্রের  নোটিশটি এখনও ঝুলছে। এই নোটিশটি এখনও ডিআইএ'র ওয়েবসাইটে আছে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় অবগত হওয়ার পর নোটিশটি বাতিল হলেও সেই বাতিলের নোটিশ কিন্তু এখনও আসেনি ওয়েবসাইটে।'

ডিআইএ (ডাইরেক্টরেট অব ইন্সপেকশন অ্যান্ড অডিটিং) এর পরিচালক প্রফেসর অলিউল্লাহ মো: আজমতগীর স্বাক্ষরিত  নোটিশটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

"এ অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর অলিউল্লাহ মো: আজমতগীর আগামী ০৭ ডিসেম্বর ২০২১ হতে ১২ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রি. তারিখ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মো: শাহেদুল খবির চৌধুরী এবং উপ-পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) জনাব বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস এর বিরুদ্ধে আনীত নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করবেন। এ অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক জনাব টুটুল কুমার নাগ, ড. এনামুল হক, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক জনাব মনিরুজ্জামান এবং অডিট অফিসার জনাব সুলতান আহম্মদ তদন্ত কাজে সহায়তা করবেন।"

মাদ্রাসা অধিদপ্তর: সরকার পক্ষের আবেদন খারিজ, ফুল বেঞ্চে শুনানী

৯ ডিসেম্বর তারিখে সেই ডিআইএ'র আরেকটি নোটিশে অভিযোগ তদন্তকরণ পত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উক্ত পত্রে বলা হয়েছে, 'উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রোক্ত পত্রের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী এবং উপ-পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) জনাব বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস এর বিরুদ্ধে আনীত নিয়োগ বাণিজ্য সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার আদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩ নং সূত্রের পত্রে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফলে এ অধিদপ্তরের ...নং স্মারক পত্র এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বাতিল করা হলো।'

'একজন সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কতিপয় জুনিয়র কর্মকর্তা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন কিনা- তা প্রশ্নসাপেক্ষ। সেই জুনিয়র কর্মকর্তা এরূপ তদন্তের আদেশ পেলেও বিনয়ের সাথে তা প্রত্যাখ্যান করাই ছিল শিষ্টাচার। শিক্ষা ক্যাডারের চেইন অব কমান্ড ভেঙে যাওয়ার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকতো এই প্রশ্নবিদ্ধ তদন্তটি কার্যকর থাকলে। ভাগ্যিস শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ অভিভাবক মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আসায় তা বাতিল করেছেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীদের কতদিন ঠেকিয়ে রাখবেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী?' এভাবেই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা। কারা এই ষড়যন্ত্রের হোতা শিক্ষা ক্যাডারের অধিকাংশ কর্মকর্তাই তা জানেন বলে উক্ত কর্মকর্তা মনে করেন। 

মাদ্রাসা অধিদপ্তরের পদগুলোতে উচ্চ আদালতের 'স্থিতাবস্থা'র আদেশ, প্রাথমিক বিজয় শিক্ষা ক্যাডারের

শিক্ষা ক্যাডারের একজন আইন বিশেষজ্ঞ কিভাবে এই ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত হয়েছিল তা তুলে ধরেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শিক্ষা ক্যাডারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ। এই পদে যিনিই থাকুন না কেনো, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসনিক পদগুলোর মধ্যে মহাপরিচালকের পরেই এই পদটি। বর্তমানে পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্বরত আছেন প্রফেসর মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী। এই শাহেদুল খবির চৌধুরীর বিরুদ্ধেই নানান সময়ে নানান ষড়যন্ত্র করা হয়েছে কিন্তু বিন্দুমাত্র টলানো যায়নি। মানহীন এবং নামসর্বস্ব ভূঁইফোর কিছু নিউজপোর্টালে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তবুও তিনি দমেননি। কেননা তিনি সবসময় ক্যাডারকে ধারণ করেন। সচেতন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তবৃন্দ অতি সম্প্রতি শাহেদুল খবির চৌধুরীর বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র মেনে নিতে পারছেন না। কয়েকজন ক্যাডার কর্মকর্তা বিভিন্ন আইনের ধারা দেখিয়ে এ ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছেন শিক্ষাপত্রিকার পাঠকদের জন্য।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ এ একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্তের কিছু নিয়মকানুন আছে। উক্ত বিধিমালার ২ নং বিধির গ উপবিধিতে কর্তৃপক্ষের নিম্নরূপ সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে (গ) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অথবা , সরকার কর্তৃক সময় সময়, জারিকৃত সাধারণ বা বিশেষ নির্দেশনা সাপেক্ষে, এই বিধিমালার অধীন কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য নিয়োজিত বা মনোনীত কোনো কর্মকর্তা, এবং কর্তৃপক্ষের ক্রমধারায় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের উর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

৩ নং উপধারায় দণ্ডের ভিত্তি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এরূপ-

কর্তৃপক্ষের মতে যে ক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্মচারী-

(ঘ) দুর্নীতি পরায়ন হন, অথবা নিম্নবর্ণিত কারণে দুর্নীতি পরায়ন বলিয়া যুক্তিসংগতভাবে বিবেচিত হন-

(অ) তিনি বা তাহার উপর নির্ভরশীল অথবা অন্য যে কোন ব্যক্তি তাহার মাধ্যমে বা তাহার পক্ষে যদি তাহার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো অর্থ সম্পদ বা অন্য কোনো সম্পত্তির (যাহার যুক্তিসংগত হিসাব দিতে তিনি অক্ষম) অধিকারী হন, অথবা
(আ) তিনি প্রকাশ্য আয়ের সহিত সংগতিবিহীন জীবন যাপন করেন; অথবা
(ই) তাহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি পরায়ণতার অব্যাহত কুখ্যাতি থাকে; অথবা 
(ঙ) নাশকতামূলক কর্মে লিপ্ত হন, বা লিপ্ত রহিয়াছেন বলিয়া সন্দেহ করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে, অথবা নাশকতামূলক কাজে লিপ্ত অন্যান্য ব্যক্তির সহিত জড়িত রহিয়াছেন বলিয়া সন্দেহ করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে, এবং সেই কারণে তাহাকে চাকুরীতে রাখা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হানিকর বলিয়া বিবেচিত হয়; তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ, বিধি ৪ এর উপ বিধি (৬) এর বিধান সাপেক্ষে, তাহার উপর এক বা একাধিক দন্ড আরোপ করিতে পারিবে।

সুপ্রিয় শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তবৃন্দ আপনারা নিশ্চয়ই এই আইনটি সম্পর্কে অবগত আছেন। লঘুদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে তদন্তের পদ্ধতি সংক্রান্ত ৬ ধারায় বলা হয়েছে "তবে শর্ত থাকে যে, কর্তৃপক্ষ, সচিব বা সংশ্লিষ্ট কর্মচারী, যে ক্ষেত্রে যিনি হন যুক্তিযুক্ত মনে করিলে অভিযোগ তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অভিযুক্তের পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন একজন কর্মচারীকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে।

এখানে উল্লেখ্য ধারা ৫ এ নাশকতামূলক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে-(২) যে ক্ষেত্রে উপ-বিধি (১) এর দফা (গ) অনুসারে তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন হয়, সেইক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সরকারি কর্মচারীর পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন ৩ (তিন) জন গেজেটেড কর্মচারীর সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করিবে।

টিএমইডি সচিবের বক্তব্য জাতির পিতার উন্নয়ন দর্শনের পরিপন্থী : শাহেদুল খবির চৌধুরী

এই রিপোর্টে এ বিধিগুলোর অবতারণা করা হয়েছে এ কারণে যে, তদন্ত কমিটি গঠনকালে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। তাই ক্যাডার সদস্যবৃন্দদের ষড়যন্ত্রের বীজটি কোথায় নিহিত আছে তা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার জন্যই এই বিধি টেনে আনা হলো। যে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল সেই অভিযোগকারীরই নাকি কোনো সন্ধান নাই! বেনামী একজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা ক্যাডারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি করা হলো। সেই তদন্তে অভিযুক্তের পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন একজন তদন্ত কর্মকর্তাকে নিয়োজিত করার কথা বলা হলেও কমিটির সদস্য হলেন জুনিয়র ৫ জন। বেনামী একটি চিঠিকে অবলম্বন করে এরকম একটি তদন্ত কমিটি গঠন শুধু হাস্যকরই নয় শিক্ষা ক্যাডারের জন্য অশনিসংকেতও বটে। হাস্যকর একারণে যে,  এধরনের বেনামী অভিযোগ যে কেউ যে কারও বিরুদ্ধে দিতে পারে এবং শিক্ষা ক্যাডারের শত্রুরা এগুলোতে আমোদিত হয়। আর অশনিসংকেত একারণে যে, শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে ওত পেতে থাকা শত্রুরাই ক্যাডারটি ধ্বংসের জন্য অন্য কুচক্রীমহলের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়।

সম্প্রতি শিক্ষা ক্যাডারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে আসীন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে বেনামী এই অভিযোগ নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এরকম একটি আদেশের বিষয়ে কিছুই জানতেন না। ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে গুঞ্জন আছে মহাপরিচালক পদে দৌড়ে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক এমন কারো কারো বিশেষ আগ্রহে সম্পূর্ণ বেআইনি এই আদেশটি জারি হয়েছে। শিক্ষা পরিবারের প্রধান অভিভাবক শিক্ষামন্ত্রীকে পাশ কাটিয়ে এই আদেশটি জারি করা হয় কাদের স্বার্থে তা এখন আর গোপনীয় কিছু নয়। একটি বিশেষ মহল শিক্ষা ক্যাডারের সর্বনাশ দেখতে চায়। শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কুচক্রীমহল সেই সর্বনাশে ইন্ধন যোগাচ্ছে। যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ এরকম আদেশ।  

আন্তঃক্যাডার পদোন্নতি বৈষম্য নিরসন জরুরি

শিক্ষা ক্যাডারের কতিপয় কর্মকর্তা শিক্ষাপত্রিকাকে বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের যে দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে 'সরকারি কলেজের জন্য দশটি বিষয়ে পাঁচ শতাধিক প্রদর্শক নিয়োগে মোটা অংকের টাকা লেনদেনের অভিযোগ ওঠে' তা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) পদধারী ব্যাক্তি দীর্ঘদিন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে দীর্ঘদিন যথাক্রমে স্কুল পরিদর্শক এবং সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দুর্নীতিবাজ হলে এতদিনে অনেক দুর্নীতির তথ্য বের হয়ে আসতো। প্রায় তিন বছর হলো তিনি পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) পদে আছেন। হাজার হাজার সেবাগ্রহীতা সেবা পেয়েছেন। কিন্তু কেউ কোনোদিন তাঁর বিরুদ্ধে একটিও দুর্নীতির অভিযোগ দিতে পারেন নি। আর উপ-পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) বেশিদিন হয়নি এ পদে এসেছেন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে কাজ করে যাওয়া পূর্বের উপ-পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) রুহুল মমিনের সততা ছিল প্রশ্নের উর্ধ্বে- যা এ শাখার কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের মুখে মুখে এখনও ফেরে। আর নিয়োগ কমিটি তো এ দু'জনেই শুধু হয়নি। এ কমিটিতে মন্ত্রণালয়েরও কয়েকজন সদস্য আছে। তাই কমিটির সবাইকে বাদ দিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের শুধু এ দু'জনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করেন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ।

ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজের একজন সিনিয়র শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন "শাহেদ স্যারের বিরুদ্ধে এ হাস্যকর অভিযোগ যারা আনয়ন করেছেন এবং যারা এ অভিযোগ আমলে নেয়ার পাঁয়তারা করছিলেন এ উভয় চক্রের স্বার্থ এক ও অভিন্ন। শিক্ষা ক্যাডারকে হেয় করার জন্যই সৎ এবং দক্ষ কর্তকর্তাদের নামে এরূপ চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয় প্রায়শ:ই। কয়েকটি পেইড ভূঁইফোড় অনলাইন নিউজ পোর্টাল শিক্ষা ক্যাডার বিরোধীদের এ এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।  শিক্ষা ক্যাডারের একজন সৎ, মেধাবী এবং দক্ষ কর্মকর্তাকে বসিয়ে দিতে পারলেই সেই চক্রান্তকারীদের উদ্দেশ্য সাধন হবে।"

উক্ত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা আরও বলেন 'ব্যাক্তি শাহেদুল খবির চৌধুরীর সততা নিয়ে যদি বলি, তিনি ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজেও কিছুদিন চাকুরি করেছিলেন। পরীক্ষা কমিটি কিংবা অন্যান্য কমিটির কাজে যুক্ত থাকলে সম্মানী পাওয়া যায়। অনেকসময় কমিটি কাজ না করেও কিংবা সামান্য কাজ করে অর্থ বন্টন করে নেয়। শাহেদ স্যার কখনোই এরূপ কোনো কমিটির অর্থ গ্রহণ করেননি। এরকম একজন সৎ এবং নির্লোভ ব্যাক্তির বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ দাঁড় করিয়ে শিক্ষা ক্যাডারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। আমি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই এ আদেশটি বাতিল করার জন্য।

শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি প্রশ্ন জেগেছে যে, শিক্ষামন্ত্রীকে অবগত না করে কাদের স্বার্থে এবং কিভাবে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো: মাহবুব হোসেন অবগত ছিলেন বলে বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সচিবের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তবে তদন্ত যে হচ্ছে না তা নিশ্চিত করেছেন ডিআইএ'র পরিচালক অধ্যাপক অলিউল্লাহ মো. আজমতগীর। তিনি বলেছেন, 'ওই তদন্ত কার্যক্রম বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়। আমরা তো শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল বলেই তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। না হয়, আমরা এ উদ্যোগ নিতাম না। এখন তারা কার্যক্রম বাতিলের আদেশ দিয়েছে। তাই তদন্ত হবে না। 

আদেশটি শিক্ষাপত্রিকার পাঠকদের জন্য দেয়া হলো-

কার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'অভিযোগপত্রে একজনের নাম ও মোবাইল নাম্বার ছিল। তবে সেই নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও কেউ তা রিসিভ করেনি।'

এই মোবাইল নম্বরের সত্ত্বাধিকারী কে তা খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। তাহলেই ষড়যন্ত্রকারীদের গোমর ফাঁস হয়ে যাবে বলে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ধারণা। তবে আপাতত এই 'তদন্ত নাটকের' অবসান হলেও ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে থাকবে না। আবারও অন্য কোন রূপে এ ষড়যন্ত্র ফিরে আসতে পারে বলে শিক্ষা ক্যাডার বোদ্ধাদের অভিমত। তাই ষোল হাজার ক্যাডার সদস্যদের সজাগ থাকতে হবে। ভবিষ্যত প্রজন্মের হাতে একটি নিরাপদ শিক্ষা ক্যাডার তুলে দেওয়ার জন্য চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে বলে জানান একজন শিক্ষা ক্যাডার নেতা। 

শিক্ষা ক্যাডারের অনেক সমস্যা বর্তমান আছে। প্রায় দুইমাস হতে চললো প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপকের পদোন্নতি ঝুলে আছে। বেশ কয়েকদিন ডিপিসি কমিটির সভা হয়ে চুড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পরও পদোন্নতি বিষয়ক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। এতে নবীন কর্মকর্তারা ক্ষোভ ঝাড়ছেন। অনেকে প্রভাষক হিসেবে একযুগ পারও করে ফেলেছেন। ক্যাডার কর্মকর্তা হয়েও যথাসময়ে পদোন্নতি না পাওয়ায় পরিবারে, সমাজে তারা হেয় হচ্ছেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। এ বিষয়ে ইতিপূর্বে প্রকাশিত কয়েকটি নিউজের একটি ছিল শিক্ষা সচিব বলেছেন বিরূপ এসিআর অবলোপন করার পরই জিও জারি হবে। কিন্তু মাত্র ২৫-৩০ জনের বিরূপ এসিআর সমস্যার জন্য সহস্রাধিক ক্যাডার কর্মকর্তাকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখাকে অনেকেই কর্তৃপক্ষের অবহেলা বলছেন। পদোন্নতি কমিটির চারজনই শিক্ষা ক্যাডার বহির্ভূত বিধায় এ ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেক ক্যাডার কর্মকর্তা মনে করেন। 


এ জাতীয় আরো খবর