রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮

ঢাবির হল খুলল বাকি তিন বর্ষের জন্যও, নেই শিক্ষার্থীদের ভিড়

  • Fion
  • ২০২১-১০-১০ ১৫:৩১:১৬
image

করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো শুধু স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ অক্টোবর থেকে খুলে দেওয়া হয়। আজ রোববার থেকে অন্য তিনটি (প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়) বর্ষের জন্যও হলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজ হলে উঠতে শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা যায়নি।

তিনটি বর্ষের জন্য হল খুললেও ভিড় না হওয়ার পেছনে শিক্ষার্থীরা দুটি কারণের কথা বলছেন। একটি হলো শিক্ষার্থীদের বড় অংশ আগেই হলে উঠে গেছে। দ্বিতীয় কারণটি হলো ১৭ অক্টোবর থেকে সশরীর ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকায় এখনই ফিরছেন না কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে কক্ষ বরাদ্দ না থাকায় প্রথম বর্ষের সবার ও দ্বিতীয় বর্ষের অনেক শিক্ষার্থীকে গণরুমে থাকতে হবে। এই দুটি কারণে আজ শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল না বলেই মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, ছাত্রীদের পাঁচটি হলে সিট বণ্টনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও ছাত্রদের ১৩টি হলে কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ আগের মতোই শূন্য। হল খোলার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অছাত্র বিতাড়ন, গণরুমব্যবস্থা বিলোপ ও স্বাস্থ্যবিধির নীতিমালা এসওপি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়। স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের জন্য হল খোলার দিন গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে এসব ঘোষণা বাস্তবায়নের চেষ্টা দেখা গেলেও পরদিন থেকে এসবের আর কোনো বালাই নেই।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর থেকে অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়ার প্রমাণপত্র থাকা সাপেক্ষে স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের হলে তোলার কথা ছিল। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীরাও সেদিন বিকেলের পর থেকে হলে উঠতে থাকেন। ইতিমধ্যে ছাত্রদের প্রতিটি হলে অছাত্ররাও উঠে পড়েছেন। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়েও কোনো নজরদারি নেই। হলে হলে কক্ষ দখল ও আধিপত্য বিস্তারের পুরোনো প্রবণতা আবারও ফিরে আসছে। প্রথম দিন সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তোড়জোড় দেখালেও পরে আর তা দেখা যায়নি। তবে বেশির ভাগ হলের গণরুমগুলো এখন পর্যন্ত ফাঁকা রয়েছে।

এমন বাস্তবতার মধ্যে আজ থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে হলে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সকালে কয়েকটি হলের আবাসিক হলের ফটকে গিয়ে হল কর্তৃপক্ষগুলোর একধরনের ‘অভিনয়’ দেখা যায়। তাঁরা ইতিমধ্যে হলে ওঠা শিক্ষার্থীদের সকাল আটটা থেকে হলের বাইরে নিয়ে আবার হলে তোলেন। এ সময় ফুল-চকলেট ইত্যাদি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের ‘বরণ’ করা হয়। তবে দু-একজন শিক্ষার্থী আজ ঢাকার বাইরে থেকে এসে হলে উঠেছেন। জানতে চাওয়া হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বাইরে কিংবা অছাত্ররা হলে উঠেছেন—এমন কোনো অভিযোগ থাকলে হল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবে। শিক্ষার্থীরা হলে ওঠার পর সবকিছু ‘স্বাভাবিকভাবেই’ চলছে বলে জানালেন প্রক্টর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান সকাল ১০টায় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও রোকেয়া হল পরিদর্শন করেন। উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘সব শিক্ষার্থীকে হলে ওঠানোর ক্ষেত্রে আমাদের করোনা সংক্রমণের হার ও শিক্ষার্থীদের টিকার অগ্রগতি মাথায় রাখতে হয়েছে। দুটিই এখন আশাব্যঞ্জক। যাঁরা এখনো নেননি, তাঁদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা চিকিৎসাকেন্দ্রে অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র করা হয়েছে। এনআইডির জন্য যাঁরা টিকা নিতে পারছেন না, তাঁদের জন্য টিএসসিতে এনআইডি নিবন্ধনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৭ অক্টোবর সশরীর ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর আগেই শিক্ষার্থীরা সবাই যাতে অন্তত এক ডোজ টিকা নিতে পারেন, তার জন্য সব ব্যবস্থা করা হবে।


এ জাতীয় আরো খবর