বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮

মাদ্রাসা অধিদপ্তর: সরকার পক্ষের আবেদন খারিজ, ফুল বেঞ্চে শুনানী

  • স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • ২০২১-০৯-১৪ ০১:৪৯:১০
image

"মাদ্রাসা অধিদপ্তর দিয়েই আমাদের প্রাথমিক  বিজয়ের শুরু। একে একে আমাদের হারানো পদগুলো আমরা উদ্ধার করবো। কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় আমাদের শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রাণের দাবি। আমাদের ষোলো হাজার ক্যাডার সদস্যদের মধ্যে অনেক মেধাবী অফিসার আছেন যারা নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। এই মেধাবী ক্যাডার কর্মকর্তাদের চতুর্থ গ্রেডে সীমাবদ্ধ রেখে তাদের মেধাকে আঁতুর ঘরেই মেরে ফেলা হচ্ছে। এই বৈষম্য বঞ্চনার অবসানকল্পেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ছিল আন্ত:ক্যাডার বৈষম্য দূর করার। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কারণে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে না।" অনেকটা ক্ষোভের সুরেই  উপরের কথাগুলো বললেন একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পদ পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত এক মামলার রিটে জয়লাভ সংক্রান্ত বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেন উক্ত কর্মকর্তা। 

মাদ্রাসা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে এই 'টাগ অব ওয়ার' চলছে কয়েকদিন ধরেই। মাদ্রাসা অধিদপ্তর গ্রাস করার অপচেষ্টা চলছিল একটি বিশেষ ক্যাডার কর্তৃক। মাদ্রাসা অধিদপ্তরের নিয়োগবিধি পর্যন্ত করে ফেলা হয়েছিল শিক্ষা ক্যাডারকে পাশ কাটিয়ে। শিক্ষা ক্যাডারের ১৪ জন কর্মকর্তাকে অধিদপ্তর থেকে সরিয়ে দেয়ারও নোটিশ জারি হয়েছিল। এ সবই ঘটছিল গোপনে। ভাবা হয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গ্রাসের মতো করেই এটিও গ্রাস করে ফেলা যাবে। কিন্তু না, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সাবেক মহাসচিব এবং বর্তমান সদস্যসচিবসহ সমিতির নেতৃবৃন্দ তৎপর থেকে এই ষড়যন্ত্র বানচাল করে দেন। ১৪ থেকে ৩৭ ব্যাচ পর্যন্ত সকল ব্যাচের প্রতিনিধি, মাদ্রাসা অধিদপ্তরে কর্মরত শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করা হয় সমিতির পক্ষ থেকে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্য গেজেটকৃত নতুন নিয়োগবিধিমালাকে চ্যালেঞ্জ করে এই রিটটি করা হয়।

আরও পড়ুন- মাদ্রাসা অধিদপ্তরের পদগুলোতে উচ্চ আদালতের 'স্থিতাবস্থা'র আদেশ, প্রাথমিক বিজয় শিক্ষা ক্যাডারের

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এ মামলার শুনানি হয়। বিজ্ঞ আদালত শিক্ষা ক্যাডারের আর্জি আমলে নিয়ে - এ নিয়োগ বিধিতে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক-পরিচালকসহ প্রেষণের পদগুলোতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করা ৬ টি অনুচ্ছেদ কেন সংবিধান-পরিপন্থী ও বেআইনি বলে ঘোষণা করা হবেনা এবং ঐ অনুচ্ছেদগুলোতে কেন অন্য সকল ক্যাডারকে বিরত রেখে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়নের সুযোগ রাখা হবে না, তার ব্যাখ্যা চেয়ে সরকার পক্ষের উপর ৪ সপ্তাহের একটি রুল জারি করেন। কিন্তু সরকার পক্ষ থেকে এই রুলের কোনো জবাব দেয়া হয়নি। ইতোমধ্যে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতৃবৃন্দের অব্যাহত প্রচেষ্টায় মাদ্রাসা অধিদপ্তর থেকে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়ন যাতে প্রত্যাহার না হয়, এ লক্ষ্যে স্ট্যাটাসকো (স্থিতাবস্থা) আবেদনের শুনানি হয়। এটা কয়েকদিন আগের ঘটনা। বিজ্ঞ আদালত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের স্ব স্ব পদ থেকে না সরানোর আদেশ দেন। আদালতের ভাষায় এটা স্ট্যাটাসকো বা স্থিতাবস্থা।

কিন্তু এর মধ্যে সরকারপক্ষ তাদের অভিপ্রায় সিদ্ধ করার জন্য এ আদেশের বিরুদ্ধে স্টে বা স্থগিতাদেশ প্রার্থনা করে চেম্বার জজের আদালতে একটি আবেদন দাখিল করে। গতকাল (১২/০৯/২০২১)  এ আবেদনের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আইনজীবীর মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারের পক্ষে উপস্থাপিত বক্তব্যকে আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত সরকারপক্ষের আবেদনটি খারিজ করে দেন এবং পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য এ আবেদনটি ফুল বেঞ্চে প্রেরণ করেন। এর ফলে মাদ্রাসা অধিদপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা স্ব স্ব পদেই অধিষ্ঠিত থাকবেন। এটা শিক্ষা ক্যাডারের প্রাথমিক বিজয় হলেও পূর্ণ বিজয় আসতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। ফুল বেঞ্চে শুনানীর দিকে তাকিয়ে থাকবে শিক্ষা ক্যাডারের ষোলো হাজার সদস্য। শিক্ষা ক্যাডারের পক্ষে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির এ যুগান্তকারী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষা ক্যাডার সদস্যবৃন্দ।  

আরও পড়ুন- টিএমইডি সচিবের বক্তব্য জাতির পিতার উন্নয়ন দর্শনের পরিপন্থী : শাহেদুল খবির চৌধুরী

গতকাল শিক্ষা ক্যাডারের এ বিজয়কে "পদদখল এবং ডিক্যাডারাইজেশনের বিরুদ্ধে শিক্ষা ক্যাডারের আরেকটি বিজয়" উল্লেখ করে শিক্ষা ক্যাডারের একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়েছেন ক্যাডারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। শিক্ষা পত্রিকার সাথে অনেক ক্যাডার কর্মকর্তা নিউজ আকারে স্ট্যাটাসটি শেয়ার করেছেন। অনেকে প্রাথমিক বিজয়ের এই বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। শিক্ষা ক্যাডারের বর্তমান সঠিক নেতৃত্ব ক্যাডারকে তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছুবেই এরকম আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন কেউ কেউ। অনেকেই একটি নিরাপদ এবং সম্মানজনক শিক্ষা ক্যাডার নিশ্চিত করার অব্যাহত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির বর্তমান নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে বর্তমান সদস্যসচিবের গতিশীল নেতৃত্বে শিক্ষা ক্যাডার তার আপন মহিমায় জেগে উঠছে বলেও অনেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কেউ কেউ আশংকা প্রকাশ করে বলেন সমিতির সদস্যসচিব শাহেদুল খবির চৌধুরীর নেতৃত্বে এ বিজয় অর্জনের পথ রচিত হলেও ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে থাকবে না। এমনও হতে পারে এই একজনকেই ঘিরেই সমস্ত চক্রান্ত চলতে পারে।   

শিক্ষা ক্যাডার নিয়ে ষড়যন্ত্র

'শিক্ষা ক্যাডার নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছেই। এখন এই ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু একজনকে ঘিরেই।' একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা নিজের অভিব্যাক্তি এভাবেই প্রকাশ করলেন। সম্প্রতি একটি হলুদ নিউজ পোর্টালে 'পাঁচ শতাধিক প্রদর্শক নিয়োগে টাকার খেলা' শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। শিক্ষা ক্যাডারভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপে এধরনের বিতর্কিত এবং নিম্ন মানসিকতার নিউজ শেয়ার করা হয়। অনেকেই এসমস্ত 'হলুদ' নিউজ পাঠ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সম্পর্কে প্রথমেই একটি নেগেটিভ ধারণা পোষণ করে ফেলতে পারেন। নিউজটির ছত্রে ছত্রে একজনকেই বিতর্কিত করার চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে। এই একজনকে বিতর্কিত করে রাখতে পারলেই শিক্ষা ক্যাডারে ন্যায্য কথা বলার লোক আর খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে শিক্ষা ক্যাডারের উক্ত কর্মকর্তার অভিমত।

শিক্ষা ক্যাডারের একজন সাহসী নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তির বিরুদ্ধে বারবার কেন এরকম অপপ্রচারমূলক হলুদ নিউজ হয় সে বিষয়ে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা খুবই সচেতন। একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা শিক্ষাপত্রিকার সাথে যোগাযোগ করে সেই হলুদ পত্রিকায় প্রকাশিত উক্ত নিউজের একটি লিংক শেয়ার করেছেন। উক্ত কর্মকর্তা লিংকের সাথে একটি মন্তব্যও শেয়ার করেছেন। তিনি মন্তব্যে লিখেছেন, "সেই হলুদ পত্রিকাটি কার হয়ে কাজ করছে তা আবারও উন্মোচিত হলো। তিনি লিখেছেন, টিএমইডি সচিবের বক্তব্যের দাঁতভাঙা জবাব দেবার পর থেকে আঘাত আসবে জানতাম, ষড়যন্ত্রকারীরা সেই নোংরা কৌশলকেই বেছে নিয়েছে। আমাদের ষোলো হাজার ক্যাডার সদস্যকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খুলনার একটি সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা বলেন, 'আমাদের প্রায় ১৬০০০ ক্যাডার কর্মকর্তার মধ্যে একজনকেই কেনো টার্গেট করে একটি বিশেষ নিউজপোর্টালে নিউজ হয় তা গভীরভাবে তলিয়ে দেখতে হবে। কেন একটি হলুদ নিউজপোর্টাল বারবার একজনকেই টার্গেট করে যাচ্ছেতাই লিখে যাচ্ছে- তা ভাবার সময় এসেছে। এই পোর্টালটির নিউজ মানেই শিক্ষা ক্যাডার বিরোধী নিউজ। এই পোর্টালের উপদেষ্টা পরিষদে একজন আছেন যিনি একসময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। সে সময়ে বেসরকারি আত্তীকরণের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার আমলে অনেক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হয়েছিল শিক্ষা ক্যাডারের বিরুদ্ধে। সেই বিতর্কিত ব্যাক্তিকে নিয়েই উক্ত হলুদ পোর্টালটি শিক্ষা ক্যাডার বিরোধী প্রপাগান্ডা চালিয়েই যাচ্ছে।'

শিক্ষা ক্যাডারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, "বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবার মত যোগ্য লোকের অভাব কিন্তু পিছন দিয়ে ছুরিকাঘাত করার লোকের অভাব নেই। শাহেদুল খবির চৌধুরী স্যার শিক্ষা ক্যাডারকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কয়েকদিন আগে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সদস্য সচিব হিসেবে তিনি যে প্রতিবাদ লিপি দিয়েছেন তাতে 'মৌচাকে ঢিল' পড়েছে। এখন অনেক ষড়যন্ত্র হবে। শিক্ষা ক্যাডারের প্রতিটি সদস্যকে তিনি সচেতন থাকার আহ্বান জানান।"

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সদস্য-সচিব হিসেবে শাহেদুল খবির চৌধুরী ১৬০০০ ক্যাডার সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন তিনি। এই সমিতিই হচ্ছে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। একসময় এই সমিতি 'বিএনপি জামায়াত পন্থীদের ঘাঁটি' ছিল। প্রকৃতপক্ষে বলা যায় সেই সময়ে শিক্ষা ক্যাডারে লজ্জাস্কর আত্তীকরণ বিধি প্রণয়ন, প্রদর্শক থেকে ক্যাডারে আত্তীকরণ (২% থেকে ১০% এ বৃদ্ধি), প্রকল্প থেকে আত্তীকরণ দেদারছে চলতে থাকে। এর পাশাপাশি শিক্ষা ক্যাডারের শিডিউলড পদগুলো আরেকটি বিশেষ ক্যাডার কর্তৃক বেদখল হতে থাকে। এই দীর্ঘ বছরেও কেউ শিক্ষা ক্যাডারের পদগুলো উদ্ধারের বিষয় নিয়ে কথা বলেননি। সমিতির আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে শিক্ষা ক্যাডারের পদগুলো উদ্ধার নিয়ে যখন উচ্চ আদালতে কয়েকটি মামলা চলমান, সেই সময়ে চতুর্মুখী ষড়যন্ত্রের থাবা বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে। শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে ভাঙন ধরানোর অপচেষ্টা হতে পারে বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমিতির একজন কর্মকর্তা।

একসময় 'বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি মানেই মুখচেনা কয়েকজন ব্যাক্তির একটি ক্লাব' ছিল। যখন নির্বাচনের সময় হতো কয়েকজন মিলে একটা মিটিং ডেকে সিলেকশন করে সমিতির কমিটি করে ফেলতেন। সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্যাডার কর্মকর্তারা সমিতির বার্ষিক চাঁদা দিয়ে ভোটার হতেন কিন্তু ভোট দিতে পারতেন না। ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম এই প্রথার বিরুদ্ধে আঘাত হানা হয়। সমিতির নির্বাচনে চিরাচরিত প্রথার একটি প্যানেলের পরিবর্তে তিনটি প্যানেল হয়। শফিক-শাহেদ প্যানেল শিক্ষা ক্যাডারের সেই প্রথার বিরুদ্ধে আঘাতকারী প্রথম শক্তি। সেই সময়ে শফিক-শাহেদ প্যানেল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলে আজও শিক্ষা ক্যাডার সেই অন্ধকারেই নিমজ্জিত থাকতো বলে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের অভিমত।

শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখে প্রকাশিত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সদস্যসচিবের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একে একে শিক্ষা ক্যাডারের অর্জনগুলো যখন স্পষ্ট হচ্ছে তখনই নানানমুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারলেই শিক্ষা ক্যাডারের অনেক বঞ্চনার অবসান ঘটবে। কিন্তু শাহেদ স্যারকে এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে পদে পদে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। একজন নেতার মনে তখনই মনোবল তৈরি হবে যদি সব সদস্য তাকে সমর্থন দিয়ে যায়। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারে এই সমর্থনের বড়ই অভাব। উক্ত ক্যাডার কর্মকর্তা শাহেদুল খবির চৌধুরীর সেই ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে আরও উল্লেখ করেন "...২য় গ্রেডের ০৩ (তিন)টি, ৩য় গ্রেডের ৯৮ (আটানব্বই) টি এবং ১২,৫১৯টি পদ সৃজনের কাজ দ্রুততার সাথেই চলছে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি মহোদয়ের প্রত্যক্ষ নজরদারী রয়েছে এ কাজগুলো সম্পন্নের ক্ষেত্রে। সমিতিও অচিরেই চলমান এ কাজগুলো সম্পন্নে সচেষ্ট রয়েছে।"

"২০১৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষিত হয়েছিল তার প্রথম ৪ (চার)টিই আমরা পূরণ করেছি। সাথে অর্জিত হয়েছে শিক্ষা ক্যাডারকে রক্ষার সংগ্রামের ফল আত্তীকরণ বিধিমালা ২০১৮। এরূপ অর্জন অতীতে কখনও হয়নি। মামলা পরিচালনা ও পরিচর্যায় সমিতি অসাধারণ সফলতা দেখিয়েছে।"

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচন

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচন খুব শীঘ্রই হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের অক্টোবর মাসের মধ্যে ভোটার লিস্ট হালনাগাদ করে নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। ডিসেম্বর মাসে সমিতির নির্বাচন করার প্রাথমিক চিন্তা আছে কর্তৃপক্ষের। উল্লেখ্য, বিভিন্ন বাস্তবতায় সমিতির নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে করা যায়নি। ফলে এডহক কমিটির মাধ্যমেই সমিতির কার্যক্রম চলছে। বর্ধিত মেয়াদে এডহক কমিটি কাজ করছে। কোভিড ১৯ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে যাওয়ায় একটা স্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে সমিতির নির্বাচনের বিষয়ে গ্রীন সিগন্যাল পাওয়া গেছে বলে সমিতিসূত্রে জানা গেছে। ৯ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠিতই আছে। তাঁরাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করবেন।

উক্ত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা নির্বাচনে একটি গতিশীল নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান গ্রহণের জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন,  বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের স্বার্থ নিয়ে ভাববার মানুষ খুব কমই আছে ক্যাডারে। নতুবা ক্যাডারের অগ্রযাত্রায় যেখানে সব সদস্য এক থাকার কথা সেখানে এত বিভাজন ক্যাডারকে শুধু দুর্বলই করছে। এই বিভাজনের ফলেই বহিরাগরা ক্যাডারের নির্ধারিত পোস্টগুলো দখলের অপচেষ্টা চালায়। অভিযোগ আছে শিক্ষা ক্যাডারেরই কেউ কেউ ফরমায়েশি রিপোর্ট করায় হলুদ পত্রিকাগুলোতে। এবং এগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে শিক্ষা ক্যাডারকে অন্য ক্যাডারের কাছে হাস্যকর করে তোলে। শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাসে কেউই স্বপ্ন দেখাতে পারেন নি যেটা শাহেদুল খবির চৌধুরী দেখিয়েছেন-কথাগুলো যোগ করেন উক্ত কর্মকর্তা।

আরেকজন কর্মকর্তা সমিতির সদস্যসচিব শাহেদুল খবির চৌধুরীর স্ট্যাটাস থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত করে বলেন আমাদের গন্তব্য হওয়া উচিত এমনটাই-

"২০৩০ ও ২০৪১ কে সামনে রেখে আমাদের প্রিয় শিক্ষা ক্যাডারকে আমরা কোথায় দেখতে চাই তার কাজ আমরা হাতে নিয়েছি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রশাসনিক কাঠামোর পুনর্বিন্যাস, কর্মজীবন পরিকল্পনা, সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় শিক্ষা ক্যাডারের কার্যক্রম কিরূপ হবে এধরনের বেশ কিছু কাজ চলছে। একটি প্রাথমিক কাঠামো ও ধারণাপত্র প্রণয়ণের কাজ চলছে। অচিরেই আমরা মতামতের জন্য আপনাদের সম্মুখে উপস্থাপন করবো। আমরা চাই ক্যাডার কর্মকর্তাগণ শুরুতেই প্রশিক্ষণ নিয়েই কর্মজীবন শুরু করবেন। প্রশিক্ষণ, প্রশাসন, কারিকুলাম, অ্যাসেসমেন্ট, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন, প্ল্যানিং, প্রকিউরমেন্ট, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প/প্রোগ্রাম পরিচালনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে শিক্ষা ক্যাডারের জন্য রিসোর্স পুল তৈরি করার লক্ষ্যে ডকুমেন্ট প্রণয়নের বিষয়েও সমিতি কাজ শুরু করেছে। সময়মতে এ বিষয়গুলো নিয়েও আমরা আপনাদের সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করবো। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতিই আমাদের একমাত্র শক্তি।" -শাহেদুল খবির চৌধুরী

শিক্ষাপত্রিকার এক অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া এবং মর্যাদা পুনরুদ্ধারে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেওয়ায় সদস্যসচিবসহ সমিতির অনেকেই ষড়যন্ত্রকারীদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন। এজন্য উক্ত কর্মকর্তাদের নামে ফরমায়েশি রিপোর্ট করানো হচ্ছে একের পর এক। শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা এরকম ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকলেও বারবার কতিপয় দক্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এরকম কুরুচিপূর্ণ আঘাত মেনে নিতে পারছেন না। তাই অনেকেই উক্ত অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ থাকার উপর জোর দিচ্ছেন। একজন শাহেদুল খবির চৌধুরীর বিরুদ্ধে বারবার অপপ্রচার চালিয়ে তাকে দূর্বল করে দিতে পারলে আখেরে কাদের লাভ হবে তা শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা ভালোই বুঝেন। তাই এরকম বিভ্রান্তিকর হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য এবং এধরনের নিউজ শেয়ার না করার জন্য আহ্বান জানান একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা। পাশাপাশি মাদ্রাসা অধিদপ্তরকে বেদখল হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য এবং শিক্ষা ক্যাডারের সিডিউলড পদগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য ১৬০০০ ক্যাডার কর্মকর্তার একতাবদ্ধ থাকাটা জরুরি বলেও ক্যাডার কর্মকর্তারা মনে করেন।

শিক্ষা ক্যাডারের আপডেট নিউজ পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন-https://www.facebook.com/shikkhapotrika/


এ জাতীয় আরো খবর