রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮

পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে সারা দেশে: মুসলিম উম্মাহ সহ বিশ্বের সবার কল্যাণ কামনা করে দোয়া

  • স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • ২০২১-০৭-২১ ১৩:৫৬:৫০
image

শিক্ষাপত্রিকা রিপোর্ট: আজ দেশব্যাপী ধর্মীয় আবহে ঈদুল আজহার উৎসব পালিত হয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় দু'টি উৎসবের একটি পবিত্র ঈদুল আজহা। এদিনে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের কামনায় পশু কোরবানি দেন। বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী ঈদের দিন সকালে সবাই ঈদের জামাতে একত্রিত হন। ঈদের নামাজ শেষে কোরবানি শুরু হয়। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ঈদের পূর্বেই অনেকে পশু কিনে রাখেন। ঢাকা শহরের ফ্ল্যাটবড়িগুলোতে পশু রাখার সমস্যা বিধায় আজকাল কম্যুনিটি ভিত্তিতে পশু কোরবানির প্রচলন শুরু হয়েছে।

আজ সকাল থেকে ঢাকার আবহাওয়া মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। ফলে সবাই নির্বিঘ্নে কোরবানি সেরে ফেলেছে। অনেক এলাকায়ই মসজিদে সকাল ৭ টায় ঈদের জামাত শুরু হয়েছে। সেই জামাতে অংশগ্রহণ করেই সকাল সকালই অনেকে কোরবানির কাজটি সেরে ফেলেছেন। বিভিন্ন মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে, এতিমখানা কিংবা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের নেতৃত্বে কয়েকজনের একেকটি দল এসে কোরবানি দিয়ে যায়। এর বিনিময়ে তারা কোরবানি পশুর চামড়া ফ্রি পায়। এছাড়াও ঢাকায় এলাকায় এলাকায় এক শ্রেণির তরুণ সিজনাল চামড়ার ব্যবসায় নেমে পড়ে। তবে কয়েক বছর ধরে চামড়ার ব্যবসায়ে ধস নামায় অনেকেই চামড়া এতিমখানা কিংবা মাদ্রাসায় দান করে দেয়।   

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির অবনমন ঘটায় এবারও জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ৫টি ঈদের জামাত হয়েছে। ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। পরেরটা আটটায়। প্রায় দেড় বছর ধরে করোনা অতিমারি চলছে। এরই মধ্যে এসেছে আরেকটি ঈদ। করোনা মহামারির মধ্যে এ পর্যন্ত তিনটি ঈদ গিয়েছে। এর মধ্যে দুইটিই কোরবানির ঈদ। স্বাভাবিক সময়ে ঈদের যে আমেজ থাকতো করোনা আক্রান্ত সময়ে সেই আমেজ আর নেই। যদিও ত্যাগের মহিমায় সারা দেশে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। এলাকায় এলাকায় মসজিদের মাইকে ইমাম সাহেবরা নানান বয়ান করেছেন। ঈদের জামাতও মাইকে প্রচার করা হয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যে এবারের ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা মোনাজাতে অংশ নেন। বিশ্বের ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনার পাশাপাশি এবার মোনাজাতে করোনা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

সারা দেশের মসজিদে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকার মুসুল্লিদের সুবিধা অসুবিধার কথা বিবেচনা করে জামাতের সময় নির্ধারিত হয়েছে। এলাকারই কোনো কোনো মসজিদে একাধিক জামাতও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের নামাজ শেষে শুরু হয়েছে পশু কোরবানি। ঢাকা শহরের এলাকার বিভিন্ন গলি, কোথাও কোথাও প্রধান সড়কের পাশে, বাসায় ও অলিগলিতে আল্লাহকে খুশি করতে পশু কোরবানি দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া ও উদযাপনের জন্য বলা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন কোরবানির জন্য নানান নির্দেশনা দিয়েছে। বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য সিটি কর্পোরেশন থেকে বস্তাও সরবারা করা হয়েছে। মসজিদে মসজিদে দূরত্ব মেনেই নামাজে অংশ নিয়েছেন মানুষ। অনেকের মুখেই মাস্ক ছিল। আবার মাস্ক পরেননি এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তবে নামাজের পর কোলাকুলি করতে দেখা যায়নি। কেউ কেউ হাত মিলিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

করোনার কারণে ঢাকায় ঈদের চিরচেনা রূপ সকালে দেখা যায়নি। সামর্থ্য অনুযায়ী ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা পশু কোরবানিতে অংশ নিয়েছেন। কেউ একা, কেউ অংশীদার হয়ে কোরবানি দিয়েছেন। এবার শেষদিকে পশুর হাটগুলোতে পশুর দাম অনেকটা কমে যায়। গত পরশু রাত থেকে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি ঝরে ব্যবসায়ীদের বিপাকে ফেলে দেয়। তাই শেষ দিকে দাম ছেড়ে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের মনে স্বস্তি এনে দেয়। ঢাকার গরুর হাটগুলোতে অনেক গরু এসেছিল। অনেকে কোরবানিকে টার্গেট করে খামার গড়ে তোলে। কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ। এই সুযোগে খামারিরা ইচ্ছেমত গরুর দাম হাঁকায়। এতে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষজন পছন্দমত কোরবানি দিতে পারে না। তবে এবার শেষ বেলায় গরুর দাম কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

এবারের ঈদে নতুন জামাকাপড় পরে মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বের হতে তেমন দেখা যায়নি। তবে কিছু এলাকায় শিশুরা নতুন জামাকাপড় পড়ে দলবেধে বন্ধুদের বাসায় ঘুরছে। অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং বয়স্করা কোরবানি নিয়ে ব্যস্ত। এ ছাড়া সড়কে যান চলাচল খুবই কম। ঢাকা চট্রগ্রাম হাইওয়ে অনেকটা হালকা। গাড়ির চাপ তেমন নেই। আবহাওয়া ভালো থাকলে  দুপুরের পর হয়তো মানুষ বেড়ানো বা ঘুরার উদ্দেশ্যে বের হতে পারে। ঈদের দিন ঢাকার বিনোদন স্পটগুলো খোলা থাকে। করোনার কারণে ঈদের এ ক'দিন লকডাউন শিথিল থাকবে। ফলে অনেকেই বিনোদন স্পটে পরিবারের সবাইকে নিয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ঈদের দিন ঢাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। দেশের ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে মাঝারি বা ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্য এলাকাগুলোয় বৃষ্টি না হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কোরবানির কারণে অনেক এলাকার অলিগলির রাস্তাঘাট পশুর রক্তে, বর্জ্যে সয়লাব থাকবে। বৃষ্টি এলে প্রাকৃতিকভাবেই তা ধুয়ে যাবে। রাস্তায় জবাইকৃত পশুর রক্ত ভালো করে ধুয়ে না ফেললে রক্ত শুকিয়ে পরিবেশ ভারি করে তোলে। পশু জবাইয়ের পর বর্জ্য একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে যাতে সিটি করপোরেশনের লোকজন সহজেই বর্জ্য নিয়ে যেতে পারে। বৃষ্টি এলে তো ভালোই। বৃষ্টি না এলেও সাধারণ নাগরিকদের উচিত কোরবানিকৃত পশুর রক্ত ধুয়ে, ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে পরিবেশকে জীবাণুমুক্ত রাখা। 


এ জাতীয় আরো খবর