শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮

প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কর্তৃক এসিআর যাচাই বাছাইয়ের কাজ শুরু

  • স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • ২০২১-০৭-১২ ২২:৫৫:২৯
image

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশির সমন্বিত একটি টীম মাউশি অধিদপ্তরে এসিআর যাচাই বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছেন। প্রায় আড়াই হাজার কর্মকর্তার এসিআর যাচাই বাছাইয়ে আরও দুয়েকদিন লাগতে পারে বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ের প্রায় ২৫৫৩ জন কর্মকর্তার ফিটলিস্ট চুড়ান্ত করা হয়েছে। এসিআর যাচাই-বাছাই থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক কাজগুলো সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মাউশি অধিদপ্তরের কলেজ ও প্রশাসন শাখার কর্মকর্তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এই করোনাকালে লকডাউনের মধ্যেও সশরীরে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পদোন্নতির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এটি নি:সন্দেহে ক্যাডার কর্মকর্তাদের উজ্জীবিত করবে।

শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি নিয়ে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। নিয়মিত পদোন্নতি না হওয়া যেনো এ ক্যাডারের এক বিধিতে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য ক্যাডারে নিয়মিত পদোন্নতি হলেও শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি নিয়মিত না হওয়ায় এ ক্যাডারে চরম বৈষম্য বিরাজমান। শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতি নিয়মিত না হওয়ার অনেক কারণ বিদ্যমান। এ বৈষম্য নিরসনে বর্তমান প্রশাসন খুবই আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কিছুদিন পূর্বে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে ১০৮৪ জনের পদোন্নতি হয়েছে। পদোন্নতিযোগ্য প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কর্মকর্তা থেকে ১০৮৪ জনের পদোন্নতি প্রদান করা হলেও তাদেরকে এক আদেশবলে পূর্বপদে দায়িত্ব সম্পাদনের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারের উপরের দিকে পদ কম বিধায় সবাইকে একযোগে পদোন্নতি প্রদান করা সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে মাউশি কর্তৃপক্ষ এবং বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতৃবৃন্দ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে শিক্ষাপত্রিকার এক অনুসন্ধানে জানা যায়। 

প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য যে তোড়জোড় চলছে তাতে ঈদুল আজহার পরপরই ডিপিসির সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে মূলত ২৮ ব্যাচ থেকে ৩৩ ব্যাচ পর্যন্ত নিয়মিত ব্যাচের কর্মকর্তবৃন্দই পদোন্নতি পাবেন বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। এর আগের ২২ ব্যাচ থেকে ২৬ ব্যাচ পর্যন্ত অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতি হলেও কেউ কেউ ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষায় পাস না করা, চাকুরি স্থায়ীকরণ না হওয়া অথবা অন্য কোনো কারণে পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন। উক্ত কর্মকর্তাবৃন্দও এবারের পদোন্নতির তালিকায় আছেন। এছাড়াও প্রায় শতাধিক আত্তীকৃত কর্মকর্তা প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি তালিকায় আছেন। যদিও তাদের জন্য আলাদা গ্রেডেশন লিস্ট করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আসন্ন পদোন্নতির বিষয়ে মাউশির উপপরিচালক (কলেজ-১) প্রফেসর ড. মো. শাহ আমির আলীর সাথে শিক্ষা পত্রিকার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "আজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং মাউশির কর্মকর্তা সমন্বয়ে একটি টীম প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের এসিআর যাচাই বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছেন। অতি শীঘ্রই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে আমরা যত দ্রুত সম্ভব কার্যপত্র এবং সামারি প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবো। আশা করা যায় আসন্ন কোরবানী ঈদের পরপরই ডিপিসির সভা অনুষ্ঠিত হবে।" পদোন্নতির এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান । সহকারী অধ্যাপক পদের পদোন্নতি হয়ে গেলে পরে প্রফেসরদের পদোন্নতির বিষয়টিও দ্রুততার সাথে করা হবে বলে তিনি শিক্ষাপত্রিকার প্রতিবেদককে আশ্বস্ত করেন। মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) স্যারদের দিকনির্দেশনায় কর্মকর্তাবৃন্দ কোভিড পরিস্থিতিতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পদোন্নতির কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। 

আসন্ন ডিপিসিতে ৩৪ ব্যাচ পর্যন্ত যোগ্য সবাইকে ফিটলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে কিছু শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা মনক্ষুণ্ণ। তারা মাউশির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানিয়েছেন ৩৪ ব্যাচের কেউ কেউ সিনিয়র স্কেল পাস করে পদোন্নতিযোগ্য হয়েছেন। তাই পদোন্নতিযোগ্য সবার পদোন্নতির জন্য ফিটলিস্টে ৩৪ ব্যাচ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি হচ্ছে গতবছর যখন প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ফিটলিস্ট সংশোধনের জন্য তথ্য চাওয়া হয় তখন ৩৩ ব্যাচ পর্যন্ত যোগ্য কর্মকর্তা পর্যন্ত তথ্য আপটুডেট ছিল। এখন নতুন করে ৩৪ ব্যাচকে পদোন্নতির লক্ষ্যে ফিটলিস্টে আনার প্রক্রিয়া শুরু করলে পুরো পদোন্নতির প্রক্রিয়াটাই পিছিয়ে যেতে পারে। এজন্য নতুন করে ৩৪ ব্যাচকে পদোন্নতির ফিটলিস্টে আনয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ আসন্ন ডিপিসির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় খুবই উৎফুল্ল। অনেকে দীর্ঘ দশ বারো বছর ধরে প্রভাষক পর্যায়ে কর্মরত আছেন। একই ব্যাচের অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাবৃন্দ যেখানে এক দুইটি প্রমোশন পেয়ে অনেক উপরের পদে চলে গিয়েছেন সেখানে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক টায়ারে পদোন্নতি খুবই জরুরি ছিল। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি শুরু থেকেই কাজে করে যাচ্ছে। সমিতির চাপে সম্প্রতি সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি হয়েছে। বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর আন্তরিকতায় এই পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে ক্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ আশাবাদী। নিয়মিত পদোন্নতি প্রক্রিয়া চালু থাকলে শিক্ষা ক্যাডারের সমস্যা অনেকাংশে দূরীভূত হয়ে যাবে বলে ক্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ মনে করেন।         


এ জাতীয় আরো খবর