শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮

শিক্ষা ক্যাডারের সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের ১০৮৪ জনকে পদোন্নতি দিয়ে জিও জারি

  • স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • ২০২১-০৬-২৯ ২২:৫০:১৫
image

আজ ২৯/০৬/২০২১ খ্রি. মঙ্গলবার অপরাহ্নে শিক্ষা ক্যাডারের বহুল কাঙ্ক্ষিত সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জিও জারি হয়েছে। ১০৮৪ জনকে পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে বি.সি.এস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাগণকে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল টাকা ৪৩,০০০/- -৬৯,৮৫০/- বেতনক্রমে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রদান করা হলো। জাতীয় বেতন স্কেলের এই ধাপটি পঞ্চম গ্রেড ভুক্ত। বেতন বৈষম্যজনিত নানান সমস্যা থাকলেও আজকের এই পদোন্নতির জিও জারি হওয়ায় পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা খুবই খুশী। শিক্ষা ক্যাডারের ফেসবুক গ্রুপগুলোতে অভিনন্দনের জোয়ার বইছে। শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী এবং বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতৃবৃন্দকে কর্মকর্তারা অভিনন্দন জানাচ্ছেন এই পদোন্নতির প্রচেষ্টার জন্য। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টাতে শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতির এই জট খুলেছে বলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিমত। ভবিষ্যতে পদোন্নতির নিয়মিত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেও ক্যাডার কর্মকর্তারা আশাবাদী। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও.এস.ডি) হিসেবে যোগদান করবেন এবং পূর্ববর্তী পদের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও আরও বলা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত নির্দেশাবলী অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের বিমুক্তি ও যোগদান প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কবে নাগাদ যোগদান করতে পারবেন এ বিষয়ে জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ শাখার উপপরিচালক প্রফেসর ড. শাহ মো. আমির আলীর সাথে শিক্ষাপত্রিকার পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি শিক্ষাপত্রিকাকে জানান কোভিড সিচুয়েশনের কারণে যোগদানের কোনো সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ আগামীকাল থেকে যেকোনো সময়েই অনলাইনে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আজই ওয়েবসাইটে একটি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার মুজিব জন্মশতবর্ষে শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি প্রত্যাশীদের পদোন্নতি দিয়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সামনে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিষয়েও সরকার খুবই আন্তরিক এবং ইতিবাচক। আশা করি এই পদোন্নতির কাজও যথাসম্ভব দ্রুত শুরু হবে। এ বিষয়ে মাউশির পূর্ণ প্রস্তুতি আছে।

পদোন্নতিপ্রাপ্তদের যোগদান বিষয়ে মাউশির ওয়েবসাইটে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। উক্ত বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে অনলাইনে যোগদানের ক্ষেত্রে সংযুক্ত নির্দেশনাবলি অনুসরণ করে বিমুক্তি ও যোগদান কার্য সম্পন্ন করবেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের পিডিএস হালনাগাদ থাকতে হবে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক অনুমোদন থাকতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে সংযুক্ত হিসেবে বিমুক্তি ও যোগদানের জন্য আলাদাভাবে নির্দেশাবলি প্রদত্ত হয়েছে। এ নির্দেশনাবলি অনুসরণ করেই যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) রুহুল মমিন বলেন, পদোন্নতিপ্রাপ্ত সবাইকে অভিনন্দন। যদিও আমাদের প্রত্যাশা ছিল আরও অধিকসংখ্যক কর্মকর্তা পদোন্নতি পাবেন। কিন্তু শূন্য পদ না থাকায় সবাইকে পদোন্নতি প্রদান করা যায় নি। তবে অন্যান্য টায়ারে পদোন্নতির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতির জট অচিরেই খুলে যাবে। যারা পদোন্নতি পেয়েছেন অনলাইনেই যোগদান করবেন। সশরীরে মাউশিতে আসার কোনো দরকারই নেই। মাউশির ইএমআইএস সেল অনলাইনে কর্মকর্তাদের আগের পদ থেকে বিমুক্তি এবং নতুন পদে যোগদানের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে। এ ব্যাপারে মাউশির কলেজ শাখার পক্ষ থেকে www.dshe.gov.bd ওয়েবসাইটে নির্দেশনাও প্রদত্ত হয়েছে। আশা করি কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনায় সবাই সহজেই অনলাইনে নতুন পদে যোগদান করতে পারবেন।

সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় সবচেয়ে বেশি পদোন্নতি পেয়েছেন পদার্থবিজ্ঞানের কর্মকর্তাবৃন্দ। পদার্থ বিজ্ঞান থেকে পদোন্নতি পেয়েছেন ৮২ জন। এরপরই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ৮১ জন। ইংরেজিতে ৭৭ জন। অর্থনীতি এবং ব্যবস্থাপনায় ৭৩ জন করে পদোন্নতি পেয়েছেন। এভাবে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের সংখ্যা অনুযায়ী বিষয়গুলোর ক্রম হচ্ছে- উদ্ভিদবিজ্ঞানে- ৬৮ জন, দর্শন- ৬৮ জন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি-৬৭ জন, গণিত- ৬৫ জন, হিসাববিজ্ঞান-৬৫ জন, ইতিহাস ৬২ জন, প্রাণিবিদ্যা- ৫৫ জন, বাংলা- ৫০ জন, সমাজকল্যাণ ২৭ জন, টিটিসি- ২৪ জন, ভূগোল- ১৮ জন, সমাজবিজ্ঞান-১১ জন, মনোবিজ্ঞান- ৮ জন, ইসলাম শিক্ষা- ৭ জন, পরিসংখ্যান- ৭জন, কৃষিশিক্ষা- ৬জন, গার্হস্থ্য অর্থনীতি- ৬জন, আরবী- ৩ জন, আরবী ও ইসলামী শিক্ষা- ২ জন, সংস্কৃত- ২জন, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং- ১ জন।  


এ জাতীয় আরো খবর