বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮

২৯ মে পদোন্নতির ডিপিসি শেষ, জিও জারি হতে কয়েকদিন দেরি হতে পারে

  • স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • ২০২১-০৬-০১ ০২:১৮:২৩
image

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের পদোন্নতি নিয়ে বাজারে অনেক গুঞ্জন শোনা গেলেও প্রকৃত অবস্থাটা কেউই বলতে পারছেন না। এ বিষয়ে শিক্ষাপত্রিকার পক্ষ থেকে অনুসন্ধানমূলক তৎপরতা হাতে নেওয়া হয়। বিভিন্ন সূত্র থেকে যা জানা গেছে তাতে মনে হচ্ছে খুব সহসা জিও জারি হচ্ছে না। আর জিও জারি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতির প্রকৃত চিত্রটাও বের হয়ে আসবে না। প্রায় ৩৪০০ পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ১০৮০ জনের পদোন্নতির কথা শোনা যাচ্ছে যা শিক্ষা ক্যাডারের জন্য হতাশাব্যঞ্জক। শিক্ষা ক্যাডারের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি তথা ডিপিসি'র মেম্বার ৫ জন। চুড়ান্ত পদোন্নতি কতজন পেয়েছেন সেটা নিশ্চিত করার পর রেজ্যুলেশনে কমিটির মেম্বার সবাই স্বাক্ষর করলেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জিও আকারে জারি হবে। কিন্তু গত ২৯ মে শনিবার ডিপিসি'র মিটিং সমাপ্ত হওয়ার পর আজ দুইদিন অতিক্রান্ত হলেও এ বিষয়ে কোনো কিছু জানতে না পেরে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ উদ্বিগ্ন। 

এ বিষয়ে গতকাল ৩০ মে রবিবার মেহেরবা প্লাজাস্থ সমিতির অফিসে সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ব্যাচের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত হন। পদোন্নতি নিয়ে প্রকৃত অবস্থাটা কি তা জানতে চেয়ে অনেক কর্মকর্তাই তাদের উদ্বেগের কথা জানান। সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, বর্তমানে সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে ২৬ ব্যাচ পর্যন্ত প্রায় ৩,৪০০ কর্মকর্তার পদোন্নতির প্রস্তাব প্রেরণ করা হলেও মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতা না থাকায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এটা শিক্ষা ক্যাডারের বিরুদ্ধে একটা সুষ্পষ্ট ষড়যন্ত্র। শিক্ষা ক্যাডার এ ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না। জরুরি সভায় উপস্থিত প্রায় শতাধিক ক্যাডার কর্মকর্তা শিক্ষা ক্যাডারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শিক্ষা ক্যাডারের আস্থার প্রতীক বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব প্রফেসর মো. শাহেদুল খবির চৌধুরীর নেতৃত্বে শিক্ষা ক্যাডারের বর্তমান সংকট নিরসনে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

চলতি ২০২১ সালের পদোন্নতি নিয়ে শিক্ষা ক্যাডার সদস্যদের আগ্রহের সীমা নেই।  দশ বারো বছর একই পদে অধিষ্ঠিত থেকে অনেকেই হতাশায় নিমজ্জিত। প্রায় তিন বছর এ ক্যাডারে নিয়মিত পদোন্নতি না হওয়ায় একটি বিশাল জট লেগে গেছে পদোন্নতিতে। বর্তমানে সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলছিল। ঈদুল ফিতরের আগে ৯ মে প্রথম ডিপিসি বসে। ঈদের পর ১৮ মে, ১৯ মে, ২৩ মে এবং সর্বশেষ ২৯মে ডিপিসি'র সভা চলে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে ২৯ মে চুড়ান্তভাবে ১০৮০ জনের পদোন্নতির সিদ্ধান্ত হয়। শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের আশা ছিল কমপক্ষে ২৪ ব্যাচ পর্যন্ত পদোন্নতি হবে। চব্বিশ ব্যাচ পর্যন্ত পদোন্নতি দিতে গেলে প্রায় ২ হাজার জনের পদোন্নতি দিতে হতো। এখন ১০৮০ জনের পদোন্নতি হওয়ায় ২৪ ব্যাচের সবাই পদোন্নতি পাচ্ছেন না এটা নিশ্চিত। 

১৬ হাজার ক্যাডার কর্মকর্তার প্রাণের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। পদোন্নতি নিয়ে চলমান সংকট নিরসনের জন্য  সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ব্যাচের প্রতিনিধিবৃন্দ গতকাল মেহেরবা প্লাজাস্থ সমিতি ভবনে একত্রিত হন। চলমান ডিপিসিতে ২৬ ব্যাচ পর্যন্ত প্রায় ৩৪০০ সহযোগী অধ্যাপক এবং ৩৩ ব্যাচ পর্যন্ত প্রায় ২,৫০০ সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রস্তাব ছিল সমিতির। কিন্তু ৯ মে শুরু হওয়া ডিপিসি'র মিটিং ২৯ মে সমাপ্ত হলেও মাত্র এক-তৃতীয়াংশের পদোন্নতির গুঞ্জন ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিক্ষুব্ধ করে তুলছে। পদোন্নতি নিয়ে  এরকম বৈষম্যের ব্যাপারে বিভিন্ন ব্যাচের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং শিক্ষা ক্যাডার নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ করেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন আছে নিয়োগ এবং পদোন্নতি সম্পন্ন করার সেখানে শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতিযোগ্য সবাইকে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য এই গড়িমসি ক্যাডার কর্মকর্তারা মেনে নিতে পারছেন না। সন্ধ্যায় সভা শেষে সমিতির আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বাসভবনে সাক্ষাৎ করে পদোন্নতিযোগ্য সবার পদোন্নতির জোর দাবি জানান। মহাপরিচালক বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন এবং শিক্ষা ক্যাডারের ন্যায়সঙ্গত দাবি বাস্তবায়ন করবেন বলে সমিতির নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে পদোন্নতি নিয়ে এই চরম সংকটে সমিতির নেতৃবৃন্দ দ্রুততম সময়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি'র সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে শিক্ষা ক্যাডারের ন্যায্য দাবি পূরণে হস্তক্ষেপ কামনা করেন। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা ক্যাডারের সমস্যার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনবেন বলে আশ্বস্ত করেন। 

শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়ে বিভিন্ন মনগড়া অনেক কথাবার্তা ফেসবুকে ছড়াচ্ছে। শিক্ষা ক্যাডারের অনেকগুলো ফেসবুক গ্রুপ। এই গ্রুপগুলোতে পদোন্নতি নিয়ে নেতিবাচক অনেক পোস্ট এবং মন্তব্য শিক্ষা ক্যাডারের বিভক্তি আরও বাড়াচ্ছে। শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি, পদসৃজন, পদ আপগ্রেডেশন এই তিনটি মুখ্য সমস্যা। এই তিনটি সমস্যাকে সামনে নিয়ে যৌক্তিকভাবেই এগুতে হবে। তাই একটি প্ল্যাটফর্মে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার জন্য এবং ধৈর্য্য ধরার জন্য সমিতির নেতৃবৃন্দ শিক্ষা ক্যাডারের সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ ১৬ হাজার সদস্যের এ ক্যাডার একত্রিত থাকলে যেকোনো সংকট নিরসন খুবই সম্ভব। শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি নিয়ে চলমান সংকট নিরসনে  মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত জিও জারি হতে দেরি হবে বলে বিশ্বস্তসূত্রে জানা গিয়েছে। পদোন্নতি নিয়ে কোনো আপডেট পাওয়া গেলে শিক্ষাপত্রিকার মাধ্যমে পাঠকদের কাছে তা পৌঁছানো হবে। 

শিক্ষা ক্যাডার নিয়ে আপটুডেট নিউজ পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন- https://www.facebook.com/shikkhapotrika


এ জাতীয় আরো খবর