সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৭ আষাঢ় ১৪২৮

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিস- জরুরি সচেতনতা নিতে হবে এখনই

  • Atiar Rahman এর টাইমলাইন থেকে
  • ২০২১-০৫-২৫ ২১:৫০:১২
image

সবে প্যান্ডেমিকের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সাথে একটা অসম লড়াইয়ে একটু একটু করে সামলে উঠতে শুরু করেছে আমাদের দেশ, এমতাবস্থায় ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে যথা গুজরাট, কর্ণাটক, রাজস্থানে আর একটি জীবাণুকে এপিডেমিক এক্ট এর আওতায় মহামারী ঘোষিত করা হলো। এছাড়াও উত্তরাখন্ড, তেলেঙ্গনা, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহারেও রোজ বাড়ছে এই মারণ ফাঙ্গাসের প্রকোপ। কেন্দ্র থেকে ইতিমধ্যেই প্রত্যেকটি রাজ্যকে অনুরোধ করা হয়েছে, এই ফাঙ্গাসটিকে Notifieable Disease ঘোষণা করতে। এহেন পরিস্থিতিতে আমি মনে করি আমাদের প্রত্যেকের একটা বেসিক ধারণা থাকা উচিত ফাঙ্গাসটির ব্যাপারে। তাই এই লেখা।

কী নাম সেই ফাঙ্গাসের? কী তার ক্ষমতা, কী সিম্পটম, কারা টার্গেট, বাঁচার কী উপায়, ওষুধ কী?

পরিচয় ফাঙ্গাসটির নাম ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিস। এই ফাঙ্গাস আমাদের এনভায়রেনমেন্টেই মজুত আছে। কীভাবে শরীরে প্রবেশ করে? বাতাসে ভেসে থাকা এই ফাঙ্গাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে আমাদের নাক, সাইনাস এবং লাংস এর মাধ্যমে। এ ছাড়াও শরীরের কোনও কাটা বা পোড়া অংশ থাকলে সেখান দিয়েও শরীরের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে। যদি এই ফাঙ্গাস শরীরের কোনও কাটা বা পোড়া অংশ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে তবে লোকাল ইনফেকশন হয়। চিন্তার ব্যাপার নয় সেটা। কিন্তু যদি এই ফাঙ্গাস আমাদের শরীরে সাইনাস এর মাধ্যমে ঢোকে তবে তা ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলে চোখে এবং ব্রেনে। ব্রেনে পৌঁছানোর পর এই ফাঙ্গাস মারাত্মক ভয়ানক রূপ ধারণ করে। তাছাড়াও এটি নাক দিয়ে ঢুকে ফুসফুসে প্রবেশ করলে পালমোনারী মিউকরমাইকোসিস তৈরি করে।

কেন হঠাৎ এই ফাঙ্গাস মারণ রূপ ধারণ করলো?

এর ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়ার মতে, এই কোভিড সিচ্যুয়েশনে স্টেরয়েডের যথেচ্ছ ব্যবহার, স্বস্তা স্টেরয়েডের ব্যবহার, সুগার লেবেলের যথেচ্ছ বাড়বাড়ন্ত, অক্সিজেন সিলিন্ডারের ফ্লো মিটারে অর্ডিনারী ট্যাপ ওয়াটারের ব্যবহার ইত্যাদি। এছাড়াও কোভিড পেশেন্টদের ইমিউনিটি কমে যাওয়ায় তাদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা দিচ্ছে।

সিম্পটম কী?

এর মতে প্রাথমিক লক্ষ্মণ গুলো হলো সাইনাস পেন, একদিকের নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথার একটা নির্দিষ্ট দিক যন্ত্রণা করা, দাঁতের যন্ত্রণা, দাঁত পড়ে যাওয়া। বড়ো বড়ো নার্সিংহোমগুলো জানাচ্ছে রুগীদের মধ্যে ঝাপসা দৃষ্টি, নাকের টিস্যু ডিস কালার হয়ে যাওয়া বা কালো হয়ে যাওয়া, মুখের ভিতর ব্ল্যাক লেসন ইত্যাদির লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া জ্বর ও থাকছে সাথে।

টার্গেট কারা?

বছর বয়সের নিচের বাচ্চা,ডায়াবিটিস রুগী, সদ্য কোভিড থেকে সেরে ওঠা রুগী বা সেরে উঠছে এমন রুগীরা ভীষণ সফ্ট টার্গেট। আপনার ডায়াবিটিস থাকলে, তা কন্ট্রোলে রাখুন। আর অন্য কোনও উপায় নেই সতর্ক হওয়ার। ডায়াগনোসিস- টিস্যু বায়োপসি,সিটি স্ক্যান করলে রোগটি ধরা পড়তে পারে।

চিকিৎসা কী?

শরীরে প্রবেশ করার পর এই ফাঙ্গাস নাকের মাধ্যমে চোখে প্রবেশ করে। তারপর ব্রেনে এট্যাক করে। ব্রেনে পৌঁছানোর পরেই এই ফাঙ্গাস মারণ রূপ নেয়। এই সময়ে আপনার প্রয়োজন এক্সপার্ট এর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ফাঙ্গাস প্রাথমিক স্টেজে ধরা না পড়লে শরীরের বিভিন্ন পার্টের ক্ষতি সাধন করছে ফাঙ্গাসটি। শরীরের যে সমস্ত জায়গায় ফাঙ্গাসটা ছড়িয়ে পড়বে সেইসমস্ত জায়গা সার্জিক্যালি রিমুভ করতে হবে। কিছু রুগী নিজেদের চোখ হারিয়েছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মারী।

কতটা রিস্কি?

ফ্যাটালিটি রেট ভীষণই হাই। Mortality রেট প্রায় ৮০ শতাংশ যদি রুগীর সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হয়। চিকিৎসা হলেও এই রেট ৪০-৫০ শতাংশ। ডাক্তারদের মতে এই ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে চিকিৎসার সময় যে ড্রাগ ব্যবহার করা হয় তা ভবিষ্যতে কিডনি ড্যামেজ, নিউরোলজিকাল ডিসফাংশন এবং স্ট্রোক এর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

চিকিৎসার জন্য কোন ওষুধ ব্যবহার করা হয়?

আপাতত ডাক্তাররা Lipsomal Amphotericin B ব্যবহার করছেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাস এর বিরুদ্ধে। প্রায় ২০টা ভায়াল এর প্রয়োজন একজন রুগীর রোগ নিরাময় করতে। প্রত্যেকটা ভায়াল এর দাম প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। আপাতত বাজারে এই ওষুধের এভেলেবিলিটির অবস্থা সঙ্কটজনক। এছাড়াও posaconazole ও isavuconazole ব্যাবহার করা হচ্ছে।মনে রাখবেন এই রোগের ক্ষেত্রে সেল্ফ মেডিকেশন অত্যন্ত বিপদজনক এবং যে কোনও ওষুধের ব্যবহার ডাক্তারের প্রেসক্রাইব করার পরেই করতে হবে।

সুরক্ষাবিধি-

১. পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন।

২.ফুল হাতা জামা প্যান্ট পরে গার্ডেনিং,ঘর পরিষ্কার করুন।

৩. মাস্ক পরুন।

৪.কোথাও কেটে বা পুড়ে গেলে সাবান জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন।

৫.নোংরা,ধুলোময় জায়গা দিয়ে যাতায়াত এড়িয়ে চলুন।

৬.বাগানে কাজ করার সময় পায়ে জুতো এবং হাতে গ্লাভস ব্যবহার করুন।

৭.হাতে পায়ের নখ কেটে পরিষ্কার রাখুন।

৮.পুরোনো মাস্ক বা ব্যবহৃত মাস্ক ভালো করে সানিটাইজ না করে আবার ব্যবহার করবেন না।

৯.সর্বোপরি সচেতন হোন। সচেতনতা ছাড়া এই রোগ থেকে আমরা বাঁচতে পারবো না। 

সোর্স- সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন


এ জাতীয় আরো খবর