সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৭ আষাঢ় ১৪২৮

শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতির সভা কাল আবার বসছে

  • শিক্ষা ক্যাডার প্রতিনিধি
  • ২০২১-০৫-১৮ ২১:২৩:১৫
image

দ্বিতীয় দিনের মতো শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতির সভা সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। এই নিয়ে ৯ মে এবং ১৮ মে দুইদিন ডিপিসির সভা বসলো। প্রায় ৩,৪০০ কর্মকর্তার এই পদোন্নতিতে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় লাগছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। আগামীকাল ১৯/০৫/২০২১ তারিখ সকাল ১১ টায় পুনরায় ডিপিসির সভা বসবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ডিপিসির মাধ্যমে পদোন্নতির সুখবর পাওয়ার জন্য। অপেক্ষার ফল সুমধুর হয়। একটি ভালো কিছুর প্রত্যাশায় শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা আশান্বিত হয়ে অপেক্ষা করতেও প্রস্তুত আছেন। 

পদোন্নতি প্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরে একই পদে কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত থাকলে মনোবল হারিয়ে যায়। বিষয়ভিত্তিক পদোন্নতির কারণে এই ক্যাডারে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। বাংলাদেশে অনেক কলেজে বিজ্ঞান নাই। অনেক কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা নাই। ফলে এই বিষয়গুলোর উপরের দিকে পদ কম সৃষ্টি হয়েছে। তাই উপরের দিকে পদ খালি না হলে নিচের কাউকে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হয় না। বিজ্ঞানের মধ্যে আবার গণিতের অবস্থা ভয়াবহ। তাই ১০ /১২ বছর ধরেও অনেকে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। অনেকেই ১০/১২ বছর ধরে সহকারী অধ্যাপক হিসেবেও আছেন। পদোন্নতির ফলে অনেকেরই বেতনও বড়বে না। পদোন্নতিজনিত সম্মানটুকু পাবেন- এই আশায় ক্যাডার কর্মকর্তারা প্রহর গুণছেন। এবং আশার কথা এই যে, যেহেতু পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তাই এটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে  এবং এবারের পদোন্নতি ব্যাচভিত্তিকই হবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে ৩৪০০ জনের যে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা এবার পদোন্নতিপ্রত্যাশী, যা দেখে অনেকের চক্ষু চড়কগাছ! তা কিন্তু একদিনে হয়নি। বছরের পর বছর পদোন্নতিজটে আটকে থেকে হয়েছে। বিষয়ভিত্তিক পদোন্নতির কারণে যেমন অনেকে আটকে থেকেছেন তেমনি নিয়মিত পদোন্নতি না হওয়ার কারণেও আটকে থেকেছেন। ২০১৯, ২০২০ সাল এবং বর্তমানে ২০২১ সালের মাঝামাঝিপ্রায়, যেখানে তিনটি টায়ারে কমপক্ষে ৫টি পদোন্নতি হওয়ার কথা সেখানে ২০২০ সালে মাত্র একটি টায়ারে (সহযোগী থেকে অধ্যাপক) পদোন্নতি হয়েছে। এবছরের মাঝমাঝি এসে সহকারী থেকে সহযোগী পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই দিন ধরে চলছে। আরও দু'একদিন চলতে পারে বলে জানা গেছে।

সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শেষ হলে শিক্ষা ক্যাডারের নিম্ন টায়ারের (প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক) পদোন্নতির বিষয়টি দ্রুত ভাবতে হবে। এখানেও প্রায় ২,৩০০ কর্মকর্তা পদোন্নতির জন্য অপেক্ষমান। ৩৩ ব্যাচ পর্যন্ত কর্মকর্তা প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি যোগ্য আছেন। এবার পদোন্নতিযোগ্য সবার পদোন্নতি হয়ে গেলে শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতির জট অনেকটা খুলবে। পরবর্তীতে পদোন্নতির প্রক্রিয়া নিয়মিত চালু থাকলে এরকম বড় সংখ্যায় আর পদোন্নতি দিতে হবে না আর অনেকের চক্ষু চড়কগাছও হবে না।

শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতির ডিপিসি নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তিকর অনেক তথ্য দিচ্ছেন। ডিপিসির সভায় গুরুত্বপূর্ণ  কর্মকর্তাবৃন্দ থাকেন। সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ৩টা পর্যন্ত সভা চলেছে। সিদ্ধান্তহীনভাবে দীর্ঘসময় ধরে একটি সভা চলতে পারে না। পদোন্নতি প্রত্যাশীদের নানান তথ্য যাচাইবাছাইয়ের প্রয়োজন আছে। এসিআরে ত্রুটিবিচ্যুতি, এমফিল, পিএইচডি ছুটিধারীদের ছুটিসংক্রান্ত তথ্য, ডিগ্রীসংক্রান্ত তথ্য অনেককিছুই দেখতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘসময়ের প্রয়োজন। একজনের জন্য আধা মিনিট করে সময় দিলেও অনেক কর্মঘন্টা ব্যয় হয়। তাই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হলেও যতদ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করার জন্য সবাই আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য সভা বসছে এবং আরও বসবে। এখানে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। পদোন্নতির সভা চলমান আছে এবং আরও দু'একদিন সময় লাগলেও সুষ্ঠুভাবে যাতে সম্পন্ন হয় এবং পদোন্নতিযোগ্য সবার যাতে পদোন্নতি হয়, এ আশায় ক্যাডার সদস্যরা বুক বেঁধে আছেন। 

 

 

    


এ জাতীয় আরো খবর