সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৭ আষাঢ় ১৪২৮

ঈদ উদযাপন, লকডাউন এবং শিক্ষা নিয়ে সামনের দিনগুলো

  • স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • ২০২১-০৫-১৫ ২০:০১:৩৩
image

গতকাল ১৪ মে, ২০২১ শুক্রবার মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে দেশব্যাপী। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বজায় রেখে মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের অন্য কোথাও ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৫টি জামাত হয় এই মসজিদে। এছাড়া জেলা শহরের মসজিদগুলোতেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। গতবারের মত এবারের ঈদটিও করোনার আতঙ্কে অস্বস্তির মধ্যে কেটেছে। ঈদের আগে প্রধানমন্ত্রী এক ভিডিও বার্তায় এবং ভাষণে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসচেতনতা বজায় রেখে জনগণকে ঈদ উদযাপন করতে অনুরোধ করেছেন। ঈদ উদযাপন যাতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উপলক্ষ্য না হয়ে ওঠে সেদিকে খেয়াল রাখতে সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

আজ ১৫ মে শনিবার। ঈদের পরেরদিন। সরকার ঘোষিত লকডাউন আগামীকাল ১৬ মে রবিবার পর্যন্ত। করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকার এই লকডাউন আরও কিছুদিন বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে। সম্ভবত আরও এক সপ্তাহের লকডাউন আসবে। ঈদের ছুটিতে যারা বাড়ি গেছেন গাদাগাদি করে তারা যদি আবার ফিরতে শুরু করেন আগেরমত করে তাহলে ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে। তাই গ্রামে যাওয়া মানুষগুলোকে ঢাকায় ফিরতে একটু দেরি করানোর চিন্তা-ভাবনা সরকারের আছে। করোনা ভাইরাসের ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে কয়েকজন রোগীর শরীরে শনাক্ত হয়েছে। রোগটি যাতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে না পারে এজন্য যথাসম্ভব কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাই ভাবছে সরকার।

ঈদের একদিন পর এই ছিল সর্বশেষ দেশের পরিস্থিতি। এবার দেশের শিক্ষা নিয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি বর্ণনায় আসি।   সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা ছিল, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে ২৩ মে। আর বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে ২৪ মে। কিন্তু করোনাভাইরাসের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মানুষের চলাচল ও সার্বিক কাজকর্মে চলমান বিধিনিষেধ ১৬ তারিখের পর আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ঘোষিত সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না। আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণ না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা সমীচীন হবে না। তারপরও যখন খুলতে হবে সে সময়ের জন্য প্রস্ততি নিয়ে রেখেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

আরও কিছুদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলেও প্রথমে তা সবার জন্য খুলবে না। প্রথমে শুধু এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষ খোলা হবে। তাদের সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিতে ক্লাস করানোর পর পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে ১৪ মাস ধরে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। এর ফলে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী মারাত্মক সমস্যায় পড়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেকে ঘাটতি নিয়ে ওপরের ক্লাসে উঠছে। কতটুকু শিখল, সেটাও যাচাই করা যাচ্ছে না। কয়েক দিন আগে একটি বেসরকারি গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাসজনিত বন্ধে প্রাথমিকের ১৯ শতাংশ এবং মাধ্যমিকের ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী শিখতে না পারার বা শিক্ষণঘাটতির ঝুঁকিতে আছে। এমন অবস্থায় শিক্ষার এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার তাগিদ দিচ্ছেন শিক্ষাবিদেরা। যেসব এলাকায় সংক্রমণ নেই বা কম, সেসব এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ারও সুপারিশ করেছেন।

জানা গেছে, এর আগে সরকার করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে ২৩ মে থেকে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবং ভারতীয় ধরন নিয়ে উদ্বেগ থাকায় চলমান বিধিনিষেধ বৃদ্ধির চিন্তাভাবনার পাশাপাশি স্কুল-কলেজ খোলাও পিছিয়ে যাচ্ছে। এর আগে এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধের পর ৩০ মার্চ দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। কিন্তু সেটিও সম্ভব হয়নি। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে।

তবে আশার কথা এই যে, করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির কথা ভেবে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকলেও অনলাইনে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস হয়েছে। সরাসরি পাঠদানের বিকল্প হিসেবে অনলাইনভিত্তিক পাঠদানের প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ছিল তারা নিজেরা ডিজিটাল ক্লাসরূম স্থাপন করে ক্লাস নিয়েছে। যাদের এই সুবিধা ছিল না তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেছে। করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষায় অবদান রাখার নতুন নতুন ভাবনার উদয় হয়েছে। এ বিষয়ে অনেক নতুন নতুন অ্যাপস তৈরি হয়েছে। জুম মিটিং, গুগল মিট এবং যোগাযোগের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপসের উদ্ভাবন ঘটেছে করোনাকালে। এই সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীদের দিয়ে লাখ লাখ ডলার কামিয়েও নেয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কিংবা শিক্ষার্থীরা এই সুযোগকে কতটুকু কাজে লাগাতে পারছে কিংবা শিক্ষার্থীরা কতটুকু গ্রহণ করতে পারছে এ বিষয়ে তেমন গবেষণা হয়নি।  আগামী চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বলা হয় তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবকে। তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব শুরু হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে কতটুকু অবদান রাখতে পারে তা সময়ই বলে দেবে। 


এ জাতীয় আরো খবর