সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৭ আষাঢ় ১৪২৮

পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, বৃহত্তর শিক্ষা পরিবার, শিক্ষা ক্যাডার সদস্যবৃন্দ সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা

  • সম্পাদক
  • ২০২১-০৫-১৪ ০৩:১৪:০২
image

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর!  দিনটি মুসলিম জাতির জন্য একটি আনন্দের দিন। পবিত্র ঈদুল ফিতর ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে বড়ো উৎসব। প্রত্যেক মুসলমান প্রতি বছর একবার অধীর আগ্রহে এই মহান উৎসব পালনের জন্য অপেক্ষা করে। রমজান মাসের ৩০ দিন রোজা রাখার পর চাঁদ দেখে ঈদুল ফিতর উৎসব পালন করা হয়। বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে ঈদুল ফিতর পালনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও বিশেষ গুরুত্ববহ। এই বিশেষ উৎসবে মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকেরা ঈদগাহে, মসজিদে নামাজ পড়ে আল্লাহর নিকটে সুখ ও শান্তির জন্য দোয়া কামনা করে এবং একে অপরকে আলিঙ্গন করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকে। এছাড়াও ঈদের দিন ঘরে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করে একে অপরকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশিদের ঘরে ঘরে ঘুরে ফিরে বেড়ানো, খাওয়া-দাওয়া করা এক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও বটে। বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশে ঈদের দিনেও কাজকর্ম চালু থাকে। বিশেষ করে আমাদের দেশের প্রবাসী বাঙালি যারা বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে আছেন তারা বাংলাদেশের ঈদ উদযাপনের দিনটিকে অনেক মিস করেন।  

ঈদুল ফিতরের আনন্দ এবার অনেকটা ম্লান হয়ে যাবে বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংকটের কারণে। আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী দেশে করোনা ভাইরাসের নতুন রূপ মারাত্মকভাবে ফিরে এসেছে। এটাকে বলা হচ্ছে করোনা ভাইরাসের ইন্ডিয়ান স্ট্রেইন। প্রতিদিন চার লক্ষাধিক আক্রান্ত হচ্ছে আর চার হাজারেরও অধিক মৃত্যু ঘটছে। ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গেও করোনার আক্রান্তের এবং মৃত্যুর হার বেশি। পশ্চিমবঙ্গের সাথে আমাদের সীমান্ত সংলগ্নতার ফলে এদেশেও ভারতীয় স্ট্রেইন ঢুকে যেতে পারে। ইতোমধ্যে ভারতীয় স্ট্রেইনের কয়েকজন রোগী শনাক্তও হয়েছে। এই স্ট্রেইন ছড়িয়ে পড়লে, আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা যেরকম নাজুক তাতে আমরা তা সামলিয়ে উঠতে পারবো কিনা সন্দেহ। ফলে আমরাও অনেকটা ঝুঁকির মধ্য আছি।

২০১৯ সনের ডিসেম্বরের শেষ দিকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে প্রথম জানা যায়। চীনের উহান শহর থেকে ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে বিপজ্জনকভাবে। এই করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকেই স্থবির করে দিয়েছে বলা যায়। চীনের একজন চিকিৎসক সর্বপ্রথম করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন বিশ্ববাসীকে। চীনের একজন সাংবাদিক ভাইরাসটির উৎস খুঁজে বিশ্ববাসীকে জানানোর জন্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দুজনকেই চীন দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেয়। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে চীন প্রথম বিশ্ববাসীকে কিছুই জানতে দেয়নি। চীন থেকে সারা বিশ্বে বিমান যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। এভাবে করোনা ছড়িয়েছে সারা বিশ্বে। ইউরোপ আমেরিকার উন্নত দেশগুলো করোনার প্রথম আঘাতেই কুপোকাত। বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশ আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরাজয় ঘটেছে করোনাকে সামলাতে না পেরে। এদিকে চীনসহ কম্যুনিস্ট দেশগুলো কিন্তু করোনাকে ভালোই সামলিয়েছে। এ সমস্ত কারণে করোনাকে চীনের জীবাণু অস্ত্র হিসেবেই অনেকে মনে করছেন। এ বিষয়ে নতুন নতুন অনেক তথ্য এবং তত্ত্বও বিশ্ববাসীর সামনে হাজির হচ্ছে।

করোনা ভাইরাস প্রথমদিকে ধীরে ধীরে ছড়িয়েছে। আমাদের বাংলাদেশে আসতেও কয়েকমাস লেগেছে। ২০১৯ এর ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সনের মার্চ মাস পর্যন্ত লেগেছে। মার্চ মাসের ৮ তারিখ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী ধরা পড়ে বাংলাদেশে। ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ২০২০ সালের মার্চের মাঝামাঝি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিয়ে, সরকারি বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, ব্যাংক-বীমা বন্ধ রেখে ভাইরাসটির বিস্তার রোধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রথমদিকে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার কম থাকলেও ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে ৩০/৪০ এ পৌঁছায়। আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। গতবছরের নভেম্বর ডিসেম্বর জানুয়ারি পর্যন্ত প্রকোপ কিছুটা কম থাকলেও চলতি বছর মার্চ এপ্রিল মাসে অনেক বেড়ে যায়। প্রতিদিন কোভিডে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক মৃত্যু ঘটতে থাকে। তবে এখন আবার কিছুটা কমে এসেছে। তারপরও ৪০/৫০ জনের মৃত্যু এবং কয়েক হাজার আক্রান্ত হওয়ার খবর আমাদের জন্য এলার্মিং। এই ভাইরাসের বিস্তার রোধ করার জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই। 

আমাদের দেশে এ ভাইরাসটি যখন ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে এক অজানা আতঙ্ক এবং ভয় মানুষের মনে ছড়িয়ে পড়েছিল। কোনো এলাকায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া গেলে সেই রোগীকে পরিবারশুদ্ধ তাড়িয়ে দেওয়ারও উদাহরণ আছে। কোনো বাসাবাড়ী বা ফ্ল্যাটে কেউ সামান্য সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হলেও করোনা রোগী চিহ্নিত করে অবরুদ্ধ করে রাখাসহ বাসা-বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়ে দেওয়ারও উদাহরণ আছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পিতা মারা গেলে মুখাগ্নি করার জন্য দূর থেকে অগ্নিপ্রজ্জ্বলিত কাঠি ছুঁড়ে দিয়ে পলায়নপর সন্তানের ছবিও আমাদের চোখের সামনে ভাসে। সর্দিজ্বরে আক্রান্ত বৃদ্ধ মাতাকে করোনা রোগী সন্দেহে বস্তায় পুরে ঝোপের ধারে ফেলে রাখার করুণ ইতিহাসও আমরা দেখেছি।  যাইহোক, সেই আতঙ্ক মানুষ অনেকটা কাটিয়ে ওঠেছে। 

তবে করোনা ইউরোপ-আমেরিকা এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতে যেভাবে ছোবল হেনেছে আমাদের দেশে সেভাবে ছোবল হানতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রীর ত্বরিৎ সিদ্ধান্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু বন্ধ রেখে করোনার প্রথম ধাক্কা সামলানো গেছে। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত চলমান আছে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মে মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন কার্যকর থাকবে। ঈদ ১৪ তারিখ। করোনার গতিপ্রকৃতি দেখে ঈদের পর লকডাউন আরও বাড়তে পারে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। এ অবস্থায় গত একবছর দুইমাস ধরে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কবে নাগাদ খোলা সম্ভব হবে তা আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণ না করে বলা যাবে না।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা পরিবারের সদস্য প্রায় সাড়ে ষোল হাজার ক্যাডার কর্মকর্তা। পরিবার পরিজন নিয়ে তারাও ঈদ করবেন। অনেকেই অবশ্য পারবেন না। কারণ লকডাউনের প্রজ্ঞাপনে বলা আছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ব-স্ব কর্মস্থলেই থাকতে হবে। আবার দূরপাল্লার যানবাহনও বন্ধ। ফলে শিক্ষা ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তাই ঈদের আনন্দে পরিবার পরিজনের সাথে মিলিত হতে পারবেন না। তারপরও যে যেখানেই অবস্থান করুন না কেনো সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপন করবেন, শিক্ষাপত্রিকার পক্ষ থেকে আপনাদের নিকট এই আবেদন।

প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার মেধাবী ক্যাডার সদস্য বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের 'বিসিএস সাধারণ শিক্ষা' ক্যাডারে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যতগুলো ক্যাডার আছে তারমধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম হচ্ছে শিক্ষা ক্যাডার। সংখ্যার দিক দিয়ে স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তারা সবচেয়ে বেশি। প্রায় ৩৫ হাজার। তারপরেই প্রায় সাড়ে ষোলো হাজারের মেধাবী কর্মকর্তার সম্মিলন এই শিক্ষা ক্যাডারে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শিক্ষা প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর প্রয়াস হাতে নিয়েছিলেন। শিক্ষার লোককেই শিক্ষা প্রশাসনে নিযুক্ত করেছিলেন। কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনও গঠন করেছিলেন। কিন্ত বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর স্বাধীনতা বিরোধীদের আমলাতান্ত্রিক চক্রান্তে 'শিক্ষাকে পিছিয়ে রাখার জন্য' শিক্ষা ক্যাডারকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করা হয়নি। ক্যাডার রিক্রুটমেন্ট রুলস অনুযায়ী শিক্ষা ক্যাডারকে ঠিকমত বিকশিত হতে দেওয়া হয়নি। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ক্যাডারের প্রশাসনিক সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এটি একটি বনসাই ক্যাডারে পরিণত হয়েছে বলে অনেক ক্যাডার কর্মকর্তা মনে করেন।

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত যেতে পারেন। চতুর্থ গ্রেডের সর্বশেষ ধাপে গিয়ে ইনক্রিমেন্ট আর বাড়ে না। অন্যান্য ক্যাডারের সাথে বেতন বৈষম্য এবং মর্যাদার বিশাল গ্যাপ হয়ে যায়। কিন্তু এমনটি তো হওয়ার কথা নয়। শিক্ষা ক্যাডার থেকে প্রথম গ্রেডে যাওয়া যাবে না এই ধরনের আইন কি কোথাও আছে? আর যদি এরকম আইন থেকেও থাকে সেটি সংবিধানের চরম লঙ্ঘন। আর যদি না থাকে তবে শিক্ষা ক্যাডারের গ্রেড উন্নয়নের দাবি বাস্তবায়ন হোক প্রথম শর্ত। কারণ মর্যাদার লড়াইয়ে কোনো আপোষ নয়। পঞ্চম গ্রেড থেকে চতুর্থ গ্রেডে যাওয়ার বিধান অন্য কোনো ক্যাডারে নেই। যায় তৃতীয় গ্রেডে। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারে এই বৈষম্য। তৃতীয় গ্রেডের ৯৮টি পদ, দ্বিতীয় গ্রেডের ৩টি পদ অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বছরের পর বছর। শিক্ষা ক্যাডারের পদ আপগ্রেডেশনের কাজটিও ধীরগতিসম্পন্ন। এগুলো শিক্ষা ক্যাডারকে পিছিয়ে রাখার জন্য ষড়যন্ত্রেরই অংশ বলে মনে করেন ক্যাডার কর্মকর্তারা।

শিক্ষা ক্যাডারে সিলেকশন গ্রেড পেয়ে কেউ কেউ তৃতীয় গ্রেডে যেতে পারলেও সবার ভাগ্যে সে শিঁকে ছিঁড়ে না। দ্বিতীয় গ্রেড আর প্রথম গ্রেড তো দূর অস্ত! ভাগ্যবান কেউ কেউ এসএসবি (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) এর নির্বাচনে দ্বিতীয় গ্রেড কিংবা প্রথম গ্রেডে যেতে পারলেও সে নজিরও তেমন নেই। ২০১৬ সালে তৎকালীন ডিজি প্রফেসর ফাহিমা খাতুন এসএসবি'র মাধ্যমে প্রথম গ্রেড প্রাপ্ত হন। কিছুদিন পরেই অবসরে চলে যান আত্মতৃপ্তি নিয়ে। কিন্তু পদটিকে স্থায়ীভাবে প্রথম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য ডিজি থাকাকালীন কোনো চেষ্টাই করেন নি। তাই আজ পর্যন্ত ডিজি প্রফেসর ফাহিমা খাতুন ব্যতীত দ্বিতীয় গ্রেড এবং প্রথম গ্রেডে যাওয়ার সৌভাগ্য কারোরই হয়নি শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের। শিক্ষা ক্যাডারের এই বৈষম্য দিন দিন বাড়তে বাড়তে আজ এক চরম অবস্থায় এসে ঠেকেছে। শিক্ষা ক্যাডারের পদগুলো অন্য ক্যাডার দ্বারা দখল হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা ক্যাডার আজ নিজ ভূমে পরবাসী। প্রাথমিক থেকে টারশিয়ারি পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার সবকিছু শিক্ষা ক্যাডারই দেখবে- ক্যাডার রিক্রুটমেন্ট রুলসে এমনটাই উল্লেখ আছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় বিভাজন করে, মন্ত্রণালয়ে বিভাগ সৃষ্টি করে, অধিদপ্তর, দপ্তর বিভাজন করে সেখানে অন্য ক্যাডার থেকে নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা ক্যাডারকে কোনঠাসা করে ফেলা হচ্ছে। সাড়ে ষোল হাজার ক্যাডার সদস্যকে এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্ত:ক্যাডার বৈষম্য দূরকরণের জন্য অনুশাসন দিয়েছেন। সে অনুশাসনের বাস্তবায়নের জন্য ক্যাডার সদস্যদের এক থাকতে হবে।

অন্যান্য সব ক্যাডারের সাথে একই সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়ে, সমস্ত যোগ্যতার প্রমাণ রেখেই এ ক্যাডারে যোগ দিতে হয়। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে কর্মকর্তারা হতাশ হয়ে যান। অন্যান্য ক্যাডারের মতো সুযোগ-সুবিধা থাকা তো দূরের কথা, কর্মস্থলে নিজের জন্য চেয়ার-টেবিলও পাননা একজন নবীন কর্মকর্তা। জেলা শহরের গুটিকয়েক কলেজ ব্যতীত অধিকাংশ সরকারি কলেজেই দুরবস্থা। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষা প্রশাসনে অবদান রাখার কথা থাকলেও শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের শুধু সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। অনেক সাংবাদিক শিক্ষা ক্যাডার সম্পর্কে না জেনেই নিউজ করে। শিক্ষা ক্যাডারে একসময় আত্তীকৃত শিক্ষকদের একটা দৌরাত্ম্য ছিল। সেই আত্তীকৃত শিক্ষকদের সাথে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের গুলিয়ে ফেলে সাংবাদিকরা নিউজ করে। এটা তাদের অজ্ঞতার কারণেও হতে পারে। তাই শিক্ষা ক্যাডারের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে ক্যাডার সদস্যদেরকেই।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি দপ্তর। এই অধিদপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তাই শিক্ষা ক্যাডার থেকে আগত। ১টি মহাপরিচালকের পদ, ৬টি পরিচালকের পদ, ৯টি উপপরিচালকের পদ, আর কিছু সহকারী পরিচালক, অফিসার ও সংযুক্ত কর্মকর্তা দিয়ে অধিদপ্তরটি পরিচালিত হচ্ছে। স্বাধীনতার পর দুই-আড়াই হাজার সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে যে জনবল ছিল আজ দুই আড়াই লাখ প্রতিষ্ঠান চালাতেও একই জনবল কাজ করে যাচ্ছে। সুতরাং শিক্ষা প্রশাসন চালাতে মাউশি অধিদপ্তরকে ঠুঁটো জগন্নাথ বানিয়ে রেখে অন্যরা ছড়ি ঘোরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সম্পর্কে কোনো নিউজ করার সময় সাংবাদিকরা লিখেন, 'দুর্নীতির দুর্গ বলে খ্যাত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর'। কিন্তু কেন এই অজ্ঞতা? নাকি ষড়যন্ত্রেরই অংশ? আমাদের দেশে শিক্ষা নিয়ে অনেক ভালো ভালো কাজ হয়। সেগুলো সাংবাদিকরা প্রচারের পাদপ্রদীপে আনে না। শিক্ষাকে জাতির কাছে, শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের জাতির কাছে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা শিক্ষাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রেরই অংশ। তাই শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সচেতন থাকতে হবে।  

শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিন পদোন্নতি হয়না। ২০১৯ সালে কোনো টায়ারেই পদোন্নতি হয়নি। ২০২০ সালে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে একটি টায়ারে মাত্র পদোন্নতি হয়েছিল। ২০২১ সালে মে মাসে এসে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির একটি মিটিং হয়েছে। উপর থেকে নিচের দিকে ২৬ ব্যাচ পর্যন্ত প্রায় ৩৪০০ কর্মকর্তার এই পদোন্নতিদানে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে তা বুঝা যায়। প্রমোশন কি ব্যাচভিত্তিক হবে না সাবজেক্ট ভিত্তিক হবে তা নিয়েই কিছুটা সংশয়ে আছে কর্তৃপক্ষ। ব্যাচভিত্তিক হতে হলে অন্যান্য ক্যাডারের সাথে গ্রেডেশন লিস্ট করতে হবে। শিক্ষা ক্যাডারে কয়েকটি বিশেষ ব্যাচ থাকার কারণে অন্যান্য ক্যাডারের সাথে ব্যাচভিত্তিক হিসাব মিলানো কষ্টকর হয়ে যাবে। আবার উপরের দিকে পদ স্বল্পতার কারণে ঢালাওভাবে সবাইকে প্রমোশন দেওয়াও দুষ্কর। এই বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে প্রমোশনের কাজটি করতে হবে। ঈদের পর যত দ্রুত সম্ভব ডিপিসি'র সভার তারিখ নির্ধারণ করে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রত্যাশা করছে পদোন্নতি প্রত্যাশীরা। এরপর প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদেও পদোন্নতির প্রক্রিয়া চালাতে হবে যতদ্রুত সম্ভব। প্রমোশন না হওয়ায় মর্যাদাহীনতায়ও ভুগছেন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা। এর অবসান চাচ্ছেন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা। আশা করি ঈদের পর পদোন্নতির প্রক্রিয়াটি অব্যাহত থাকবে।

আজকের ঈদুল ফিতরের এই দিনে শিক্ষাপত্রিকার পাঠক, শুভানুধ্যায়ী,  শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবার পরিজনদের সর্বোপরি দেশবাসী সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা! শিক্ষা পরিবারের একটি বৃহৎ অংশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সেগুলোর সাথে জড়িত লক্ষ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারী। এছাড়াও প্রাথমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে যুক্ত শিক্ষা পরিবারের সবাইকে জানাই ঈদ মোবারক!

 


এ জাতীয় আরো খবর