সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৭ আষাঢ় ১৪২৮

৩,৩৯৮ জন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তার সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রস্তাব, ৯ মে ডিপিসি

  • স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • ২০২১-০৫-০৭ ০১:০৫:৫৬
image

আগামী ৯ মে, ২০২১ খ্রি. রোববার সকাল ১১ টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষা ক্যাডারের সহকারি থেকে সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রদানের লক্ষ্যে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি)'র সভা বসবে। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ডিপিসি সভায় সভাপতিত্ব করবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন। ডিপিসি কমিটির সদস্য-সচিব মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (কলেজ), অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব এই কমিটির সদস্য। মাউশি অধিদপ্তরের কলেজ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার ৩,৩৯৮ জনের সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রস্তাবনা উঠবে ডিপিসি সভায়। এর মধ্যে ৯৫ জন আত্তীকৃত কর্মকর্তা। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের গ্রেডেশন লিস্ট আলাদা করা হয়েছে। আত্তীকৃতদেরও  আলাদা গ্রেডেশন লিস্ট করা হয়েছে। এই লিস্ট ধরেই পদোন্নতি দেওয়া হবে।  শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিসিএসকৃত এবং আত্তীকৃত কর্মকর্তাদের আলাদা গ্রেডেশন লিস্ট ধরে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে।

শিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ শাখার উপ-পরিচালক প্রফেসর শাহ আমির আলী শিক্ষা পত্রিকার সাথে মোবাইলফোনে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ডিপিসি'র সভাপতি সচিব স্যারের সভাপতিত্বে মহাপরিচালক স্যারসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। প্রায় ৩৪০০ কর্মকর্তার পদোন্নতির এই মিটিংটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ শাখা এবং এসিআর শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সমস্ত ডকুমেন্ট নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত থাকবেন।"

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির বর্তমান নেতৃত্ব আসার পরে ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শিক্ষা ক্যাডারে নিয়মিত পদোন্নতির ধারা অব্যাহত থাকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পরিবর্তন, সিনিয়র সচিবের অবসর গ্রহণ ইত্যাদি কারণে ২০১৯ সালে এসে পদোন্নতিতে গ্যাপ পড়ে। ২০২০ সালে কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নিরলস প্রচেষ্টায় সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে মাত্র একটির টায়ারে পদোন্নতি হয়।

কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও অন্যান্য ক্যাডারে পদোন্নতি অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতি বন্ধ থাকার কোনো কারণ নেই। কোভিড পরিস্থিতির কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন আছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে সমস্ত নিয়োগ এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুশাসন বাস্তবায়নে, সমিতির দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল হিসেবে  দীর্ঘদিন পর শিক্ষা ক্যাডারে একটি টায়ারে পদোন্নতি হতে চলেছে। ডিসেম্বর ২০২১ সালের মধ্যেই পদোন্নতিযোগ্য সবার পদোন্নতি নিশ্চিত করা হবে বলে সমিতির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গতবছর (২০২০) সহযোগী  অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে রেকর্ডসংখ্যক ৬০৯ জনের পদোন্নতি হয়েছিল। অধ্যাপক পর্যায়ের মাত্র ১১০০টি পদের মধ্যে ৬০৯টি পদে পদোন্নতি প্রদান করা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি'র একটি বড় সফলতা ছিল। শিক্ষা ক্যাডারের একটি বড় ব্যাচ ১৪ এর সবাইকে অধ্যাপক করা হয়েছিল। আর একটি বড় ব্যাচ ১৬ এর কিছু কিছু বিষয়ের কর্মকর্তারা অধ্যাপক হয়েছেন। ১৬ ব্যাচের অধিকাংশ কর্মকর্তাই প্রফেসর পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন। ১৬ ব্যাচের অনেকেরই পদোন্নতি হলেও তেমন কোনো লাভ হবে না যদি শিক্ষা ক্যাডারের গ্রেড উন্নয়ন করা না হয়। ১৪ এবং ১৬ ব্যাচের অনেকেই বেতন স্কেলের চতুর্থ গ্রেডের সর্বশেষ ধাপে পৌঁছে গিয়েছেন।

শিক্ষা ক্যাডারের একটি বড় বিশৃঙ্খলা হচ্ছে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক পদের বেতন গ্রেডের বৈষম্য। সহকারী অধ্যাপক হয়েও কেউ চতুর্থ গ্রেড পচ্ছেন, অধ্যাপক হয়েও কেউ চতুর্থ গ্রেডেই থাকছেন। ইনক্রিমেন্টের সময় সীমা শেষ হলে তাদের আর বেতন বৃদ্ধি হবে না যদি শিক্ষা ক্যাডারের প্রফেসর পদের গ্রেড পরিবর্তন না হয়। সাথে সামঞ্জস্য রেখে সহকারী এবং সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের বেতন গ্রেডও পরিবর্তন করতে হবে। ৫ম গ্রেড থেকে প্রমোশন পেয়ে অন্যান্য ক্যাডারের মত ৩য় গ্রেডে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।  ১৬, ১৭,১৮,২০ ব্যাচ মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার কর্মকর্তা আছেন প্রফেসর পদে পদোন্নতি যোগ্য। প্রফেসর পর্যায়ে আছে মাত্র ১১০০ পদ। তখন এই আড়াইহাজার প্রফেসর পর্যায়ের কর্মকর্তাকে কোথায় পদায়ন করা হবে?  উপরের দিকে পদ সৃজন করা না হলে প্রফেসর পদে এত সংখ্যক কর্মকর্তাকে কোথায় পদায়ন করা হবে, সেটি একটি দুশ্চিন্তার বিষয়। শিক্ষা ক্যাডারের পদগুলো উদ্ধার করা গেলে এই বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা কে পদায়ন করা সম্ভব। এছাড়াও ১২,০০০ পদ সৃষ্টির বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নিতে হবে সমিতির। কর্মজীবন পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই পদগুলো সৃষ্টির বিষয়টি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা নিতে হবে সমিতির। বর্তমানে ৩টি দ্বিতীয় গ্রেডের পদ এবং ৯৮টি তৃতীয় গ্রেডের পদ, যেগুলো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে, দ্রুত সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে ঈদের পরপরই।

মাউশি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে ৯ তারিখের ডিপিসিতে সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে ২৬ ব্যাচ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে। প্রায় ৩,৪০০ কর্মকর্তার পদোন্নতির প্রক্রিয়া একদিনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না বলে মাউশি অধিদপ্তরের কলেজ শাখা সূত্রে জানা গেছে। এর জন্য কয়েকটি সভা লাগবে। মাউশির কলেজ শাখা এবং এসিআর শাখা পদোন্নতিপ্রত্যাশী যোগ্য কর্মকর্তাদের সমস্ত তথ্য আপটুডেট করে রেখেছে। তাই সময় যে কয়দিন লাগুক না কেনো, যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করার ব্যাপারে মাউশি অধিদপ্তরের কলেজ শাখা খুবই তৎপর আছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (প্রশাসন) রুহুল মমিন শিক্ষা পত্রিকাকে বলেন, "এবারের ডিপিসিতে রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৩৪০০ জনের পদোন্নতি হবে বলে আশা করছি। অন্যান্য ক্যাডারের ২৭ পর্যন্ত উপসচিব হয়েছে, এসপি হয়েছে। অন্যান্য ক্যাডারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ২৭ পর্যন্ত সহযোগী অধ্যাপক পদে প্রস্তাব প্রেরণ করা দরকার ছিল। যাইহোক ২৬ ব্যাচ পর্যন্ত বিশাল এই লটের পদোন্নতি হলেও শিক্ষা ক্যাডারের জন্য একটি বড় অর্জন বলা যায়। ঈদের পরপরই প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রদানের কাজ শুরু করে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে মাউশির পূর্ণ প্রস্তুতি আছে।"

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির দপ্তর সম্পাদক এবং বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দ মইনুল হাসান শিক্ষা পত্রিকাকে বলেন, "আমরা সমিতির পক্ষ থেকে ২৭ ব্যাচ পর্যন্ত সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রস্তাব রেখেছিলাম। কি কারণে ফিটলিস্টে তাদের নাম উঠে নাই তা জানা নেই। তারপরও ২৬ ব্যাচ পর্যন্ত সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেলে ব্যাচ ভিত্তিক পদোন্নতির ধারাটা শিক্ষা ক্যাডারের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

আগামী ৯ তারিখের ডিপিসির দিকে শিক্ষা ক্যাডারের সাড়ে ১৬ হাজার কর্মকর্তা তাকিয়ে আছেন। পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তাবৃন্দ আশা করছেন ঈদের আগেই যেন জিও জারি হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে। মাউশি অধিদপ্তরের কলেজ ও প্রশাসন শাখা সূত্রে জানা গেছে ঈদের আগেই জিও জারি করা হবে। কোভিড পরিস্থিতির কারণে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্ব স্ব কর্মস্থল থেকেই অনলাইনে মাউশি অধিদপ্তরের কলেজ শাখায় যোগদান করবেন। সে ব্যাপারে অধিদপ্তরের পূর্ণ প্রস্তুতি আছে। পদোন্নতির পর ইনসিটু থাকবেন। ঈদের পরে পদায়নের বিষয়টি চিন্তা-ভাবনা করা হবে।

 

 


এ জাতীয় আরো খবর