সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৭ আষাঢ় ১৪২৮

৯ মে ডিপিসি'র সভা: সহযোগী অধ্যাপক পদে রেকর্ডসংখ্যক পদোন্নতির আশা এবার

  • শিক্ষাপত্রিকা প্রতিবেদক
  • ২০২১-০৫-০৪ ২৩:০৭:১২
image

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার জট অবশেষে খুলেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ০৯ মে রবিবার শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতির সভা (ডিপিসি) অনুষ্ঠিত হবে।  এ পর্যায়ে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। ঈদের আগে পদোন্নতি প্রত্যাশীদের জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নিরলস প্রচেষ্টায় ঈদের আগেই এ ডিপিসি সভার আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির বর্তমান নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে  বছরে দু'টো করে পদোন্নতি চলছিলো। ২০১৮ সালে সর্বশেষ পদোন্নতি হয়। ২০১৯ সাল থেকে নানা রকম সমস্যায় পদোন্নতির ধারাটা এক রকম থাকেনি।

বিশ্বব্যাপী কোভিড পরিস্থিতি শিক্ষা খাতকে চরম আঘাত হেনেছে। সেই পরিস্থিতি বাংলাদেশের শিক্ষা খাতকেও লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। এক বছরের উপর হয়ে গেল সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত বন্ধ। ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে বন্ধ হয়ে ২০২১ সালের মে মাস চলছে।  ঈদের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা-ভাবনা চলছে। তবে কোভিড পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তার উপর নির্ভর করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অনেকেই কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন। এই ঝুঁকির মধ্যেও শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ নিরলস পরিশ্রম করে এসিআর যাচাই-বাছাই করে পদোন্নতির সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রেখেছিলেন। মাউশি অধিদপ্তরের কলেজ ও প্রশাসন শাখার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের নিকট সারসংক্ষেপসহ ডিপিসি'র সভা আহ্বানের তারিখ চেয়ে চিঠি প্রেরণ করা হলেও প্রায় কয়েক মাস পর এই তারিখ নির্ধারিত হলো।

শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি সংক্রান্ত ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটির সভাপতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব। সদস্য-সচিব মাউশির মহাপরিচালক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (কলেজ) এবং জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পর্যায়ের দুইজন কর্মকর্তা কমিটির সদস্য।  মোট ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। ৯ মে সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডিপিসি কমিটির সভাপতির সভাপতিত্বে পদোন্নতির সভা শুরু হবে। মাউশি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের পদোন্নতিযোগ্য সবার পদোন্নতির জন্য কর্তৃপক্ষ খুবই আন্তরিক। তাই ঐদিনই সবার পদোন্নতি নিশ্চিত করে ঈদের আগেই জিও জারি করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতির তারিখ নির্ধারিত হওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির দপ্তর সম্পাদক এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, উপপরিচালক, সৈয়দ মইনুল হাসান শিক্ষা ক্যাডার ভিত্তিক এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন-

৯ মে, রবিবার, সকাল ১১ টায় সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য ডিপিসি সভা।
পদোন্নতিপ্রত্যাশী সবার জন্য শুভ কামনা।

ফেসবুক স্ট্যাটাস বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষাপত্রিকাকে তিনি বলেন, মুজিব শতবর্ষে এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বর্ষে শিক্ষা ক্যাডারের জন্য ঈদের আগে এরকম একটি শুভ সংবাদ স্বস্তি বয়ে আনবে। ২০১৯ সাল ২০২০ সাল এবং আজকে ২০২১ সালের মাঝামাঝি যেখানে বছরে  দুটো করে হলেও আমাদের ৫ টি পদোন্নতি হতো সেখানে ১টি হয়েছে। অধ্যাপক পদে, ৬০৯ জনের পদোন্নতি হয়েছিলো এবং অন্য দুটো টায়ারেও আমি যতটুকু জানি, সমস্ত কাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পরেও আমরা সেই পদোন্নতির ডেট পাচ্ছিলাম না। এখন ডিপিসির তারিখ চুড়ান্ত হয়েছে। ৯ মে সভা। আশা করি পদোন্নতিযোগ্য রেকর্ড সংখ্যক কর্মকর্তা পদোন্নতি পাবেন।

উল্লেখ্য ২০১৯ সালে শিক্ষা ক্যাডারে কোনো পদোন্নতি হয়নি। ২০২০ সালে শিক্ষা ক্যাডারে সর্বশেষ পদোন্নতি হয়েছিল। সহযোগী থেকে অধ্যাপক পদে ৬০৯ জনের পদোন্নতি হয়েছিল। শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাসে প্রফেসর পদে সর্বোচ্চ সংখ্যক পদোন্নতি ছিল এটি। শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ প্রফেসর। সর্বমোট প্রফেসর পদ সম্ভবত ১১০০টি। একটি টায়ারে অর্ধেকেরও বেশি পদে পদোন্নতি দেওয়া বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির অনন্য কৃতিত্বই বলতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায় সহযোগী অধ্যাপক পদেও রেকর্ডসংখ্যক পদোন্নতি প্রদান করা হবে বলে সমিতি সূত্রে জানা যায়।  শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি নিয়ে ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজমান। এই অসন্তোষের কারণ হচ্ছে, শিক্ষা ক্যাডারে অন্যান্য ক্যাডারের মতো ব্যাচ ভিত্তিক পদোন্নতি প্রদান করা হয় না। তবে বর্তমান সমিতির নেতৃত্বে এই সমস্যাও সামনের পদোন্নতিগুলোতে কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতৃবৃন্দ মনে করেন।

সমিতির দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মইনুল হাসান এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন- "আমরা আশাবাদী যে, অবশেষে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি এমপি ও মাননীয় উপমন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি'র বিশেষ নির্দেশনায় শিক্ষা ক্যাডারের বহুল প্রত্যাশিত - পদোন্নতি প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের যে কোনো দিন ডিপিসির সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ কার্যকর উদ্যোগের জন্য আমরা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির পক্ষ থেকে মাননীয় মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, শিক্ষা সচিব মহোদয়ের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক, কলেজ ও প্রশাসন, মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। কঠোর লক ডাউনের মধ্যেও, পদোন্নতির প্রাক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যেহেতু চলমান লকডাউনের মেয়াদ আবারও বর্ধিত হয়ে ১৬ মে পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে, তাই আমরা চাই লকডাউনের মধ্যে, কাঙ্ক্ষিত সময়েই, পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক।

আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, ২২ ব্যাচ থেকে ২৭ ব্যাচ পর্যন্ত পদোন্নতিযোগ্য সকল কর্মকর্তাদের সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রদান করা হবে। ২৭ ব্যাচ পর্যন্ত পদোন্নতি দিলে ৩ হাজারের অধিক সংখ্যক কর্মকর্তা পদোন্নতি পাবেন। যেহেতু ২৭ ব্যাচ পর্যন্ত কর্মকর্তাগণ এবার উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, তাই ক্যাডার বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২৭ ব্যাচ পর্যন্ত সবাইকে পদোন্নতি দিলেই, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে। যতটুকু জানি, মাউশি অধিদপ্তরের এ বিষয়ে প্রস্তুতি রয়েছে।

এ ছাড়া, যেহেতু মাউশি অধিদপ্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন আছে, তাই ঈদের পরপর, বিলম্ব না করে, একইভাবে ২৮ ব্যাচ থেকে ৩৩ ব্যাচ পর্যন্ত পদোন্নতিযোগ্য সকল কর্মকর্তার সহকারী অধ্যাপক পদেও পদোন্নতি আশা করছি আমরা। এবং এই পদোন্নতি,১ম বারের মতো , অন্য ক্যাডারের ন্যায়, উচ্চতর ৬ষ্ঠ গ্রেডে যাতে হয়, সে ব্যাপারেও আমরা সচেষ্ট আছি। যেহেতু বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি ও অনুশাসন অনুযায়ী মহান মুজিব বর্ষের মধ্যে সকল সরকারি অফিসগুলোর নিয়োগ ও পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে, সুতরাং পদোন্নতি বিষয়ে বিলম্ব বা কালক্ষেপণ কোনোভাবেই শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। আমরা আশা করছি, এবারের পদোন্নতি সম্পন্ন হবার পর পর সাড়ে ১২ হাজার পদ সৃজন এবং ২য় ও ৩য় গ্রেডের পদ সৃষ্টির বিষয়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও সুস্পষ্ট অগ্রগতিও দৃশ্যমান হবে। কেননা ক্যাডারের অধিকার ও মর্যাদা সুসংহতকরণে এ ইস্যুগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। অবশেষে সবার জন্য শুভকামনা।"


এ জাতীয় আরো খবর