রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮

মান্ধাতার আমল: পঁয়ত্রিশ লক্ষ বছর আগের মহাপরাক্রমশালী রাজা কে এই মান্ধাতা?

  • স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • ২০২১-০৪-২৫ ০০:৩০:১০
image

মান্ধাতার আমল কথার শাব্দিক অর্থ মান্ধাতা নামক কোনো ব্যক্তির আমল। কিন্তু এর আলংকারিক অর্থ- পুরনো কাল, প্রাচীন কাল। এখন দেখা যাক পৌরাণিক রাজা মান্ধাতা কে এবং কী তাঁর পরিচয়। মান্ধাতা ছিলেন সূর্যবংশের/ইক্ষ্বাকু বংশের রাজা যুবনাশ্বের পুত্র। তাঁর দেশের রাজধানী ছিল অযোধ্যা। রামায়ণ মহাকাব্যের প্রধান চরিত্র রামও ছিলেন একই বংশের। যুবনাশ্বের স্ত্রীর কোনো পুত্র হচ্ছিল না।পুত্রলাভের আশায় তিনি মুনিদের আশ্রমে গিয়ে যোগ সাধনা শুরু করলেন। মুনিরা তাঁর সাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে পুত্র সন্তানের জন্য যজ্ঞ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। যথাসময়ে যজ্ঞ শুরু হলো। একদিন মাঝরাতে যজ্ঞের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে মুনিগণ বেদিতে কলসি ভর্তি মন্ত্রপূত জল রেখে ঘুমাতে গেলেন। যুবনাশ্বের স্ত্রী কলসির এই জল পান করলে পুত্র সন্তান হবে- এটাই ছিল কথা। শেষ রাতের দিকে তীব্র তেষ্টায় কাতর যুবনাশ্ব অনবধানতাবশত নিজেই সে কলসির জল পান করে ফেললেন। সকালে উঠে মুনিগণ পুরো ঘটনা শুনে মুচকি হেসে বললেন, বৎস, ভয় নেই। সন্তান তোমার পেট থেকেই বের হবে। কেবল অবস্থানটা বদল হলো মাত্র। মুনিগণ যুবনাশ্বকে গর্ভধারণের কষ্ট থেকে মুক্তি দিলেন।

একশো বছর পার হওয়ার পর মুনিভূমের চিকিৎসকদল যুবনাশ্ব রাজার উদরের বামদিক বিদীর্ণ করে শিশুপুত্রটিকে বের করে আনলেন। সে হিসেবে এই শিশুই হচ্ছে বিশ্বের প্রথম সিজারিয়ান শিশু। এর আগে কোনো সিজারিয়ান বেবির ইতিহাস কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায় না। শিশু বের করে আনা হলো ঠিকই, কিন্তু দুগ্ধ পাবেন কোথায়? যুবনাশ্ব পুরুষ, তাঁর তো দুগ্ধগ্রন্থী নেই। বুকের দুধ ছাড়া শিশুটি বাঁচবেনই বা কীভাবে? তখন তো আর গুঁড়ো দুধ ছিল না। হায় হায় সাধের সন্তান বুঝি দুধের অভাবে মারা যায়। সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এলেন স্বয়ং ইন্দ্র। তিনি নিজেই শিশুটিকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিলেন। দেবরাজ ইন্দ্রের অঙ্গুলি ছিল অমৃতক্ষরা। ইন্দ্র শিশুর মুখে নিজের তর্জনী পুরে দিয়ে বললেন, মাম ধাস্যতি। অর্থাৎ- আমাকে পান করো। ইন্দ্রের একথা থেকে যুবনাশ্বের শিশু পুত্রটির নাম হয়ে গেল মামধাতা। যার পরিবর্তিত রূপ- মান্ধাতা।

মান্ধাতা অল্প বয়সে বিদ্যাবু্দ্ধি আর অস্ত্র চালনায় পৃথিবী-খ্যাত হয়ে গেলেন। তার সঙ্গে বিয়ে হলো চন্দ্রবংশীয় রাজকন্যা ইন্দুমতির। রাজা হওয়ার পর মান্ধাতা পৃথিবী-বিজয়ে বের হলেন। যুদ্ধ করতে করতে তিনি সারা পৃথিবীই জয় করে ফেলেন। অনুমান ৩৫ লাখ বছর আগে সত্যযুগের প্রথম দিকে ইনি রাজত্ব করেছিলেন। সেই কারণে অনেক প্রাচীনকাল বা অতি পুরানো কিছু বোঝাতে মান্ধাতার আমল বলা হয়। কিন্তু মান্ধাতার আগে তো আরও অনেক রাজা রাজত্ব করে গেছেন, তাহলে মান্ধাতা কেন? কারণ, মান্ধাতা ছিলেন পৌরাণিক যুগের প্রথম মহাপরাক্রমশালী রাজা। সেকালে তাঁর মতো বিশ্বজোড়া খ্যাতি আর কোনো রাজা অর্জন করতে পারেননি। স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্র পর্যন্ত তাঁকে সমীহ করে চলতেন। তাই বিখ্যাত পৌরাণিক শাসকদের মধ্যে মান্ধাতাই ছিলেন প্রাচীনতম মহাপরাক্রমশালী নৃপতি। সংগতকারণে প্রাচীনকালের রাজার কথা বলতেই প্রথম তাঁর নাম চলে আসে। মান্ধাতার মৃত্যু নিয়ে একাধিক মত প্রচলিত। কোথাও বলা হয়েছে- মান্ধাতা বিশাল ধনসম্পত্তি ত্যাগ করে বানপ্রস্থে গিয়ে ভগবান বিষ্ণুর চরণে আশ্রয় নিয়েছিলেন। মহাভারতে বলা হয়েছে- মান্ধাতা লবণাসুরের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত হন। ইক্ষ্বাকু বংশের উত্তরাধিকারী হিসেবে রাজা দশরথ ও তাঁর পুত্রগণ মান্ধাতার বংশধর। দশরথপুত্র শত্রুঘ্ন লবণাসুরকে হত্যা করে মান্ধাতা-হত্যার প্রতিশোধ নেন। সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, সুবাচ


এ জাতীয় আরো খবর