মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

সনদ জালিয়াতির অভিযোগ জবি পোগোজ স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২০২১-০২-১৭ ০৮:১৩:১৭
image

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্নাতকোত্তরের সনদ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ সনদ ব্যবহার করেই তিনি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক হয়েছেন। ২০১১ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন বলে চাকরির আবেদনে উল্লেখ করেছেন এবং সে অনুযায়ী সনদের কপিও জমা দিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ দারুল ইহসান ট্রাস্ট বলছে, এই সনদটি তারা ইস্যু করেনি। এছাড়া টাকা না দেয়ায় একই স্কুলের খন্ডকালীন এক সহকারী শিক্ষককে শরিফুল ইসলাম হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত নথিতে দেখা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম ঢাকা মেট্রোপলিটন টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে ২০০২ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে বিএড ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ২০১১ সালে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন বলে সনদ প্রদান করেন। তার সনদের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করলে ওই সনদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দারুল ইহসান ট্রাস্টে চিঠি পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ।


এরপর চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি দারুল ইহসান ট্রাস্ট্রের ফিরতি চিঠিতে জানানো হয়, শরিফুল ইসলামের দেখানো ০০৪২৩৫ নম্বরের সনদটি তাদের ইস্যু করা নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ল্যাবরেটরি স্কুল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ল্যাবরেটরি স্কুল একই আইনে পরিচালতি হয়। ঢাবির স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রার্থীদের মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। একইসঙ্গে শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ থাকতে পারবে না। তবে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম তার চাকরির আবেদনে বলেছেন, তিনি ১৯৮২ সালে এইচএসসি এবং ১৯৮৩ সালে বিএ সম্পন্ন করেন। এই দুটি পরীক্ষার দুটিতেই তিনি তৃতীয় বিভাগ পেয়েছেন।

তার চাকরির আবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি এইচএসসি এবং বিএ কোর্সে তৃতীয় বিভাগ পেলেও মাস্টার্সে পেয়েছেন প্রথম বিভাগ।

তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, ওই স্কুলের খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক প্রভাত চন্দ্র বণিককে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। এ বিষয়ে প্রভাত চন্দ্র বণিক ৪ ফেব্রুয়ারি পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের সভাপতি বরাবর একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার অন্যায় কাজকর্মের প্রতিবাদে অধিকাংশ শিক্ষক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের কাছে অভিযোগ জানাই। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো নোটিশ ছাড়াই আমাকে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করেন। এর কিছুদিন পর তিনি আমাকে ফোন করে বলেন, ‘আপনি যদি চাকরি করতে চান তাহলে আমাকে কিছু টাকা দেন আমি কমিটিসহ অন্যান্যদের কাছে আপনার বিষয়ে সুপারিশ করবো। বর্তমানে টাকা ছাড়া কেউ কোনো কথা শুনতে চায় না। আপনি তো জানেন সব কথা সবসময় বলা যায় না। কয়েকজনকে তো আমি এভাবে স্কুলে ফিরিয়ে এনেছি।’

অভিযোগে প্রভাত চন্দ্র আরও বলেন, ‘আমি তার কথায় রাজি না হওয়ায় অদ্যাবধি তিনি আমাকে স্কুলে আসতে দিচ্ছেন না। এছাড়াও ২০১৯ সালের নভেম্বর মাস থেকে আমাকে কোনো বেতন প্রদান করা হয় না। কেন বেতন প্রদান করা হয় না এ ব্যাপারে কোনো জবাব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে দেয়নি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দারুল ইহসান থেকে সনদ নিয়েছি। এরপর সরকার এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। আমি এই সনদ আর ব্যবহার করি না। এটাকে কেন জাল সার্টিফিকেট বলছে, দারুল ইহসানে খবর নিতে হবে।’

এ বিষয়ে পোগোজ স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, ‘সনদ জাল কি-না, তা আমি জানি না। তবে ওইটা যে দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটির সনদ না, সেটা ফিরতি চিঠিতে লেখা আছে। এটা যাচাই করবে প্রশাসন। ট্রেজারার স্যারের কাছে গেছে, তিনি খতিয়ে দেখছেন।’

এ বিষয়ে পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. কামালউদ্দিন আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পোগোজ স্কুলের সব অভিযোগ আমার কাছে আসছে। এগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’জাগো নিউজ


এ জাতীয় আরো খবর