মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

আবাসিক হল খোলার দাবিতে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২০২১-০২-১৭ ০৭:৪৯:৩৬
image

শিক্ষার্থীদের সেশনজট এড়াতে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোয় বিভিন্ন পর্বের পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষার্থীদের আবাসিক হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন পলিটেকনিকের হাজার-হাজার শিক্ষার্থী। দ্রুত হল খোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা দ্রুত হল খোলার দাবি জানান।


শিক্ষার্থীরা জানায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার-হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন পর্বের পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে বিপাকে পড়েছেন।

তারা জানান, হল বন্ধ থাকায় রাজধানীতে থাকা-খাওয়ার সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীতে তাদের আবাসনের সুযোগ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাসায় উঠতে পারলেও অনেকেরই সেই সুযোগ নেই বলে জানান তারা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ৪০ থেকে ৪৫ দিন লাগবে তাদের পরীক্ষা শেষ হতে। কিন্তু এই সময়ের জন্য ঢাকায় মেস বাসা ভাড়া করা বা নেয়ার সামর্থ্য অনেক শিক্ষার্থীই নেই। থাকার ব্যবস্থা না হওয়ায় যারা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না তাদের লেখাপড়ার ভবিষ্যৎ কি হবে? এর দায় কে নেবে, প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের।

এ বিষয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একাধিক বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন পর্বে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা আবাসিক হলে থেকেই লেখাপড়া করেন। বিশেষ করে মেয়েদের সমস্যা বেশি হচ্ছে। ছেলেরা বন্ধু-সহপাঠী কারো আত্মীয়ের বাসায় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সুযোগ কম। সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে আমরাও নিরুপায় বলে জানান তারা।


এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের রাত্রিযাপনের ছবি। পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপের ছবিতে দেখা যায়, ছেলেরা রোববার দিনে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রাতে ওই পলিটেকনিকের মাঠেই চাদর বিছিয়ে রাত্রিযাপন করছেন।

এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোরাদ হোসেন মোল্ল্যা জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তবে সিদ্ধান্ত কারিগরি অধিদফতর থেকে দেবে। এ বিষয়ে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত জানতে পারেননি। অনেকগুলো পলিটেকনিক থেকে হল খোলার দাবি জানিয়েছেন বোর্ডে। সেই দাবির চিঠিও তিনি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠিয়েছেন।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে কওমি মাদ্রাসা বাদে দেশের অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। সর্বশেষ গত রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছুটি বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।জাগো নিউজ


এ জাতীয় আরো খবর