মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

করোনার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে উৎকণ্ঠা

  • কিশোর প্রতিনিধি
  • ২০২০-১২-২২ ১৬:৪৪:০৩
image

১৭ মার্চ,২০১৯ এ কোভিড-১৯ এর কারণে বাংলাদেশের সকল স্কুল-কলেজ ১ মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ২৩ মার্চ,২০১৯ এ এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্কুল-কলেজ এখনো বন্ধ। সেই সাথে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার কথা ভেবে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসি পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের পর ‘উত্তীর্ণ’ শিক্ষার্থীদের এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে কখন ও কীভাবে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে- এটাই পাশ করা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকের প্রধান প্রশ্ন। 
শীতকালে কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ধাপ আসার সম্ভাবনা বেশি। ফলে ডিসেম্বরের পর থেকে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চ এই সময়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও পরে তাঁরা সেই জায়গা থেকে অনেকেই সরে আসেন। কেননা এ পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা অনেক। অন্যদিকে, করোনার প্রভাব থাকাকালীন যদি ভর্তি পরীক্ষা হয় তাহলে বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ঢাকায় আসবে, আবার ঢাকার শিক্ষার্থীরা অন্য জেলায় যাবে। এতে করোনার সংক্রমণ আরও বেশি হতে পারে। তাই এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিতে না ফেলে করোনার প্রভাব একবারে না যাওয়া পর্যন্ত বা করোনার ভ্যাক্সিন সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানো না পর্যন্ত পরীক্ষা না নেয়া সকলের জন্য ভালো। করোনার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কয়েকজনের কাছে মতামত চাইলে ওসামা নামে একজন  ভর্তি পরীক্ষার্থী জানান," মানুষের স্থান পরিবর্তনে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে তাই করোনার মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা না নেয়াটাই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হবে"। রেনেসাঁ মডেল একাডেমি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রিন্সিপাল জানান," এইচএসসি পরীক্ষায় একটি কেন্দ্রে প্রায় ৪-৫ হাজার শিক্ষার্থী একসাথে হতো, এতে তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে পরীক্ষা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আর ভর্তি পরীক্ষায় প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা বাংলাদেশের  সব শিক্ষার্থী একসাথে হবে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।“ তাই করোনা সংক্রমণ না কমা পর্যন্ত  ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত রাখা দরকার বলে মনে করেন তিনি। 
করোনার কারণে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না নিলেও সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করার কথা ভাবছে সরকার। শিক্ষার্থীদের একটি গুচ্ছে পরীক্ষা দিলেই চলবে। তাতে করোনা ঝুঁকি কিছুটা হলেও কম থাকবে। ইতিমধ্যে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে হবে তা ঠিক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। 
এ রকম সিদ্ধান্তের জন্য আমাদের হয়তো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে এবং অপেক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে মার্চ কিংবা এপ্রিল পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্বশাসিত বলে এখানে কোনো সিদ্ধান্ত চাপানোর সুযোগ নেই। কিন্তু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার অবসান হয়। 

লেখকঃ এস এম আল আমিন 
শিক্ষার্থী 
সাভার,ঢাকা।


এ জাতীয় আরো খবর