মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

বিজয়ের ৪৯ বছর; লড়াই শেষ হয়নি আজো

  • শাহাদাৎ শিপু
  • ২০২০-১২-১৬ ০০:১৬:২৮
image

আজ ১৬ ডিসেম্বর। বাঙালি জাতির সবচেয়ে আনন্দ আর গৌরবের দিন। আজ মহান বিজয় দিবস। 
১৯৭১ সালের আজকের এই দিনেই আমরা পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছিলাম। কিন্তু এই বিজয় এমনি এমনি আসেনি। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা।
শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি আমাদের স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যার নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীনতা। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা, সেই সব মা বোনদের যাদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা। শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি জাতীয় চার নেতা সহ মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রাখা সেই সকল মহান মানুষদের।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক আইন প্রশাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী  ৯৫ হাজার পাকিস্তানী সেনা নিয়ে ভারতীয় ও বাংলাদেশী বাহিনীর যুগ্ম কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার  কাছে আত্মসমর্পণ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপ সেনাপ্রধান, এয়ার কমোডর এ কে খন্দকার  আত্মসমর্পণে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিকাল ৪ টা ৩১ মিনিটে আত্মসমর্পণ দলিলে সই করেন নিয়াজী। 

৪৯ বছর হয়ে গেছে আমরা স্বাধীন হয়েছি। পাকিস্তানীরা আজ আর এদেশে নেই আমাদের অত্যাচার করার জন্য। কিন্তু ৭১ এ পাকিস্তানীরা চলে গেলেও রয়ে গিয়েছিল তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার আলবদর আল শামস বাহিনী করা জামাতে ইসলাম ও কিছু ইসলামিক নামধারী দল। রয়ে গেছে পাকিস্তানী হানাদারদের প্রেতাত্মা। স্বাধীনতা পরবর্তী সাধারণ ক্ষমা পেয়েছিল রাজাকারেরা। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান সেইসব পতিত রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের পূনর্বাসিত করে এদেশের রাজনীতিতে।  গোড়ায় পানি পেয়ে খুব দ্রুতই এরা বিষ বৃক্ষের মত বেড়ে ওঠে। নিজামী মুজাহিদদের মত কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীরা এদেশে মন্ত্রী হয়। সরকারি গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে নিজামি মুজাহিদরা যখন স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে যায় তখন নিশ্চই লাখো শহিদের আত্মা আমাদের অভিশাপ দিয়েছে। মৃত্যুর পরেও তাদের আবার মৃত্যু ঘটেছে।
আওয়ামীলীগ সরকার চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সাকা, কাদের মোল্লা, নিজামী ,মুজাহিদদের। কিন্তু দীর্ঘ ৪০ বছরে ওরা যে দেশবিরোধী বিষের বীজ বপন করেছে এই দেশে তার মৃত্যু হয়নি। ওদের ফাঁসি হলেও ওদের চেতনায় হাজার হাজার লোক ঘুরে বেড়াচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের বুকে। যারা কখনো মনেপ্রাণে এই দেশকে স্বীকার করে না, যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে মনে করে গন্ডগোল আর ভারতের চক্রান্ত, যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে অস্বীকার করে আমাদের জাতীয় সংগীতকে।
৭১ এ কোন ইসলাম নামধারী কোন সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন করেনি। বরং প্রায় সবগুলো দলই পাকিস্তানকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছে প্রত্যক্ষভাবে। 
জামাতে ইসলাম সহ ইসলামিক নামধারী রাজনৈতিক দলগুলো এদেশের মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পূঁজি করে রাজনীতি করে আসছে। ওদের কল্যাণে এদেশে মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে। জঙ্গীবাদের চর্চা হয়েছে এদেশে। সাম্প্রাদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়েছে এদেশের বাতাসে। 
তলে তলে এরা কতদূর এগিয়েছে ভাবলে অবাক হতে হয়। আজ তারা প্রকাশ্যে বলে বেড়ায় আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের মূল চালিকা বিধান ৭২ এর সংবিধান নাকি ওরা ছুড়ে ফেলে দিবে। স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ভাস্কর্য ওরা ভেঙে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দিবে, অপারেজয় বাংলা সহ দেশের সকল স্বাধীনতার স্মারক ভাস্কর্য ওরা ভেঙে ফেলতে চায়। হায়! লাখো শহিদের আত্মা চিৎকার করে বলছে - হায়!

আজ স্বাধীনতার এত বছর পরও যদি এসব স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী গোষ্ঠীকে দমন করা না যায় তবে যেই চেতনায় এদেশ স্বাধীন হয়েছিল, যেই চেতনায় আমরা পাকিস্তানীদের শাসন অগ্রাহ্য করেছিলাম, যেই স্বাধীনতার জন্য আমরা বুকের তাজা রক্ত দিয়েছি তা সব বৃথা যাবে। 

স্বাধীনতার সপক্ষের দল আওয়ামীলীগ বর্তমানে ক্ষমতায়। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা আজ সরকার প্রধান। দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা করে গড়ে তুলতে এদেশের স্বাধীনতা বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করতে পারলে কেবল তা আওয়ামীলীগই পারবে। লড়াই এখনো শেষ হয়নি। সুতরাং এখন, নয়তো কখনোই নয়।

সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু

 

 


এ জাতীয় আরো খবর