মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমকে সফল করতে আমাদের করণীয়

  • হাবিবা খাতুন , কিশোর প্রতিবেদক
  • ২০২০-১১-১১ ০৬:১০:৫৭
image

  মানসম্মত শিক্ষা ও দেশের উন্নয়ন একই সুতোয় গাথা। একটি অপরটিকে ছাড়া অচল। কিন্তু করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবে এই শিক্ষার্থীদের জন্য একধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ থাকতে থাকতে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার প্রতি চলে এসেছে এক ধরনের অনভ্যস্থতা। তারা তাদের শিক্ষার প্রতি হয়ে পড়ছে উদাসীন। এই উদাসীনতা যাতে শিক্ষার্থীদের মাঝে দীর্ঘস্থায়ী না হতে পারে তাই বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১লা মে থেকে সংসদ টেলিভিশনে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে “আমার ঘরে আমার স্কুল” নামে এক শিক্ষা বিষয়ক অনুষ্ঠান যেখানে ১ম থেকে ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করানো হচ্ছে এবং তাদেরকে হোমওয়ার্ক প্রদান করে নিজেদের মেধাকে নিজেদেরই মূল্যায়নের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন বিদ্যালয় নিজ নিজ তত্ত্বাবধানে শুরু করেছে অনলাইন ক্লাস। সেখানে শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি ছবি প্রদর্শন করে শিক্ষাকে আরও চমৎকার ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারছে শিক্ষার্থীদের কাছে। এভাবেই যেন আমাদের শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্নের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস করতে পারছে। শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সম্পৃক্ত রাখতে পারছে শিক্ষার সাথে। কিন্তু এতসব সুবিধার মাঝেও করোনা মহামারীর এই দুঃসময়ে শিক্ষা কি আসলেই প্রতিটি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে পারছে? এটি এক কঠিন প্রশ্ন। Babson Survey Research Group (BSRG) এর এক জরিপে জানা গিয়েছে গড়ে ৩৩% শিক্ষার্থীরা অনলাইন পাঠদান গ্রহণ করছে। উল্লেখ্য সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃক অনুষ্ঠিত অনলাইন ক্লাসে গড়ে ২৯% শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে যা প্রতিটি বিদ্যালয়ের এক অভিন্ন চিত্র। আবার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস এর সুবিধা ভোগ করার চিন্তা করাও যেন অসম্ভব এক ব্যাপার। এই করোনা মহামারীর প্রভাবে আর্থিক দুরাবোস্থার কারণে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের কাছে অনলাইন ক্লাসের সুবিধা ভোগ করা স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। অনলাইন ক্লাসে অনুপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গিয়েছে তাদের অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ না করার প্রধান দুটি কারণ হচ্ছে স্মার্ট ডিভাইস না থাকা ও ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য। যার ফলে শহুরে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসের সুবিধা ভোগ করতে পারলেও গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা এর যাবতীয় সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । এছাড়া যারা অনলাইন ক্লাসে যোগদান করছে তাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে নানা শারীরিক সমস্যা। দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার কারণে মাথাব্যাথা, চোখ ব্যাথা সহ নানা শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি তাদের হতে হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্কুল না খোলা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে অনলাইনে পাঠ গ্রহণে কোন বিকল্প না থাকায় সবার কাছে অনলাইন শিক্ষার সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ইন্টারনেটের মূল্যহ্রাস ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা। এছাড়াও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছে স্মার্ট ডিভাইস পৌঁছে দেয়া। যদি তা আমরা করতে পারি, তাহলেই সম্ভব সরকারের অনলাইন শিক্ষার এই চমৎকার উদ্যোগটিকে সার্বিকভাবে সফল করে তোলা।

লেখকঃ হাবিবা খাতুন

শিক্ষার্থী

১০ম শ্রেণী

সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়


এ জাতীয় আরো খবর